kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

দেশেই তৈরি হচ্ছে ৮০% খেলনা

সজীব আহমেদ   

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশেই তৈরি হচ্ছে ৮০% খেলনা

ছবি : লুৎফর রহমান

‘খেলনা’ শিশুর মানসিক বিকাশের মাধ্যম। সব শিশুই খেলনা পাগল। অনেক শিশু আছে, যারা খেলনা ছাড়া ঘুমায় না, খায় না, এমনকি পড়তেও বসে না। তাই সন্তানের প্রয়োজনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে বিশ্বব্যাপী এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে পাঁচ বছর আগেও স্বল্পমূল্যের প্লাস্টিকের খেলনার প্রায় পুরোটাই ছিল আমদানিনির্ভর। চাহিদার প্রায় সবই আসত চীন থেকে। তবে গত কয়েক বছরে অবস্থা বদলেছে। আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে খেলনাসামগ্রী।

বর্তমানে দেশে ছোট-বড় সব মিলিয়ে দুই শতাধিকের বেশি খেলনার কারখানা রয়েছে। তারা বছরে চার হাজার কোটি টাকার খেলনাসামগ্রী উৎপাদন করছে। বর্তমানে চাহিদার ৮০ শতাংশই মিটছে দেশীয় খেলনা থেকে। বাংলাদেশে বিদেশি তিনটি প্রতিষ্ঠান আছে, যারা খেলনা উৎপাদন করে শতভাগ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে। রপ্তানিকারকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বছরে এখন প্রায় ৩৪০ কোটি টাকার প্লাস্টিকের খেলনা ও খেলনাজাতীয় পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। খেলনাশিল্পের সঙ্গে বর্তমানে এক লাখের বেশি শ্রমিক জড়িত। খেলনা তৈরির প্রসারতায় বাড়ছে এর কাঁচামাল আমদানিও। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং ব্যস্ততম খেলনার বাজার এখন পুরান ঢাকার চকবাজার।

বাংলাদেশ টয় মার্চেন্টস, ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় খেলনাশিল্প করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছোট ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বড় কারখানাগুলো এখনো উৎপাদনে আছে। তবে উৎপাদন করোনার আগের চেয়ে অর্ধেকে নেমে গেছে। খেলনা মূলত সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় বাণিজ্য মেলা, পহেলা বৈশাখ, ঈদ ও পূজা উৎসবে। করোনার কারণে প্রায় সব উৎসব বন্ধ।

খেলনাশিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, দেশীয় উৎপাদিত খেলনা শতভাগ পরিবেশবান্ধব। কিন্তু বিদেশি খেলনাগুলো নিম্নমানের পোশাক ও অন্যান্য মালপত্র দিয়ে তৈরি হয়। দেশীয় খেলনায় ভালো মানের প্লাস্টিকসহ উন্নত মানের কাঁচামাল ব্যবহার হয়। চীন থেকে আমদানি করা খেলনার চেয়ে দেশীয় খেলনা অনেক ভালো। দেশের খেলনাশিল্প ভবিষ্যতে শুধু চীন নয়, অনেক উন্নত দেশকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে বলে জানান তাঁরা।

খেলনা এখন শুধু নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে না, বৈদ্যুতিক চার্জার ও ব্যাটারিচালিত রিমোট কন্ট্রোল খেলনা ছোটাছুটি করে সবাইকে আনন্দ দেয়। হাতি, ঘোড়া, বাঘ-ভল্লুক, বাস ও ট্রেন সব রকমের ‘জ্যান্ত’ খেলনাই বিজ্ঞানের কল্যাণে হাতের নাগালে।

রাজধানীর চকবাজারের খেলনা বিক্রেতা শফিউল হাসান সাগর বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও প্লাস্টিকের খেলনার প্রায় পুরোটাই আসত চীন থেকে। এখনো চীন থেকে কিছু পরিমাণ আসে। তবে বাজারে ভালো একটি জায়গা দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশে তৈরি খেলনা।’

চকবাজারের পাইকারি খেলনার দোকান ‘নিউ মাস্টার স্টোরের’ মালিক সামাদ আজাদ বলেন, ‘খেলনার চাহিদা দিন দিন বাড়ছেই। এখন দেশেই উন্নত মানের খেলনা উৎপাদন হচ্ছে। তবে করোনার কারণে বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিক্রি আগের চেয়ে কিছু কমে গেছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি শতভাগ উন্নত মানের খেলনা উৎপাদন করতে পারে তাহলে বিদেশি খেলনার চাহিদা একদম কমে যাবে।’

মেহেদী মার্ট ও বাজার সারাবেলার ইনচার্জ আনিছুর রহমান বলেন, ‘সুপারশপগুলোতে উন্নত মানের বিদেশি খেলনার চাহিদা বেশি। দেশি খেলনার কোয়ালিটি আরো ভালো হলে আরো চাহিদা বাড়বে।’ 

বাংলাদেশ টয় মার্চেন্টস, ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজি মো. শাহজাহান মজুমদার বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও দেশের চাহিদা পূরণে বছরে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার খেলনাসামগ্রী আমদানি হতো। বর্তমানে দেড় হাজার কোটি টাকার আমদানি হয়, বাকি ৮০ শতাংশ চাহিদা দেশে উৎপাদন করেই মেটানো হয়। বর্তমানে ছোট-বড় খেলনা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দুই শতাধিক। এই খাতে বর্তমানে এক লাখের বেশি শ্রমিক যুক্ত রয়েছেন। প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেলে আমরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি বাড়াতে পারব। আমাদের এখানে জায়গার বড় সমস্যা, বিভিন্ন দেশে খেলনা শিল্পনগরী রয়েছে, কিন্তু আমাদের তা নেই। সরকারের কাছে আমাদের মূল দাবি হলো এই খাতকে এগিয়ে নিতে খেলনা শিল্পনগরী করা হোক। করোনার কারণে দেশের প্রায় সব খাত ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু অন্যান্য খাত সরকারি প্রণোদনা পেলেও আমরা এখন পর্যন্ত কোনো প্রণোদনা পাইনি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা