kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনায় রোবটের উত্থানে উদ্বেগ চাকরির বাজারে

► শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে চিকিৎসায় রোবটের ব্যবহার বাড়ছে
► উৎপাদন চালু রাখতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে যাচ্ছে অনেক কম্পানি
► চীনে পাঁচ বছরে এক কোটি ২৫ লাখ ম্যানুফ্যাকচারিং চাকরি কমেছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহারে

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় রোবটের উত্থানে উদ্বেগ চাকরির বাজারে

করোনা মহামারিতে জার্মানির প্রায় সব শিল্প-কারখানা যখন জনশূন্য হয়ে পড়ে, তখন কিছু কারখানা সচল রাখে কয়েক হাজার রোবট। এমনকি ফেস মাস্কের তীব্র সংকটে জার্মানির দুটি কম্পানি রোবট ব্যবহার করে দ্রুত ফেস মাস্ক তৈরি করতে সক্ষম হয়।

চীন করোনা রোগীদের চিকিৎসা থেকে শুরু করে, কোয়ারেন্টিন মানা হচ্ছে কি না তার নজরদারি এবং রোগীদের খাদ্য সরবরাহেও রোবট ব্যবহার করছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায়ও ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে রোবট। ইউভিডি রোবটস নামের একটি ডেনিশ কম্পানি আল্ট্রাভায়োলেট-লাইট-ডিসইনফেকশন রোবট তৈরি করে চীন ও ইউরোপের হাসপাতালগুলোতে শত শত মেশিন সরবরাহ করেছিল। এর পাশাপাশি ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্টুরেন্ট, শপিং মল ও মুদি দোকানেও যেন রোবটই বিকল্প নির্ভরতা হয়ে উঠছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যখন মানুষের স্পর্শ বিপজ্জনক তখন কারখানা সচল রাখছে রোবট। কিন্তু করোনা মহামারির এ সংকট যখন কেটে যাবে তখন এ রোবট কি মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর কারণ হয়ে উঠবে না?

ফরাসি স্টার্টআপ শার্কস রোবটিকসের সহপ্রতিষ্ঠাতা সিরিল কাবারা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে যেখানে মানুষের ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে আপনি রোবট কাজে লাগাতে পারেন।’ ২০১৯ সালে যখন প্যারিসে নটর ডেম গির্জায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে তখন এই প্রতিষ্ঠানটির তৈরি রোবট ‘কলোসাস’ আগুন নেভাতে সহায়তা করেছিল। এ উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমরা যখন চার থেকে পাঁচ বছর আগে কলোসাসকে উপস্থাপন করেছিলাম, তখন ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা হাসাহাসি করে বলেছিলেন, এ যন্ত্রগুলো আমাদের চাকরি কেড়ে নেবে? অথচ অনেক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাতেই এ রোবট দারুণ সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে।’

কাবারা বলেন, ‘বর্তমান সময় প্রমাণ করছে রোবটের ব্যবহার অনেক বেশি প্রয়োজন। ফলে অনেকেরই চাকরি কেড়ে নেবে বলে এর বিরোধিতা করলেও এখন সেই বিরোধিতা আর নেই।’ তিনি বলেন, ‘অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক আমাদের বলেছেন, করোনার এ সময়ে রোবট তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সহায়তা করেছে। তা না হলে বড় সংকটে পড়ে যেতেন তাঁরা।’

তবে ব্যবসায়ীদের জন্য এসব রোবট সহায়ক হলেও কর্মীরা এগুলোকে চাকরি হারানোর কারণই মনে করছেন বলে জানান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক মার্ক মুরো। তিনি বলেন, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা যদি আরো গভীর হয় তবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আরো বেশি কর্মী ছাঁটাই করে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে যাবে।’

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ কার্ল ফ্রে বলেন, ‘যারা এত দিন বলে আসছেন যে ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহারে কারো চাকরি যাবে না, তাঁরা আসলে ভুলের মধ্যে আছেন।’ তিনি চীনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘দেশটির শিল্প-কারখানাগুলোতে ব্যাপকভাবে রোবট নেওয়া হচ্ছে। আর তার ফল হচ্ছে ২০১৩-২০১৭ এ পাঁচ বছরে এক কোটি ২৫ লাখ ম্যানুফ্যাকচারিং চাকরি হারিয়ে গেছে।’ স্প্যানিশ বিশ্ববিদ্যালয় আইইর এক গবেষণায় বলা হয়, চীনে করোনা সংকটের এ সময়ে ‘রোবফোবিয়া’ বিস্ফোরণ দেখা গেছে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকস এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের দুই কোটি চাকরি কেড়ে নেবে রোবট। এর ফলে সামাজিক অসমতা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে, যদিও অর্থনৈতিক উৎপাদন বাড়বে। এতে বলা হয়, রোবট ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি অর্থনৈতিক সুবিধা দিলেও কম দক্ষতার চাকরিগুলো ব্যাপকভাবে কেড়ে নিচ্ছে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে, যা বড় উদ্বেগের কারণ।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসোসিয়েশন ফর অ্যাডভান্সিং অটোমেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বব ডয়লে বলেন, ‘গাড়ি সংযোজন কারখানায় রোবট ব্যবহারের যে ঐতিহ্য ছিল তা ছাড়িয়ে এখন ছোট থেকে বড় সব রকমের ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানায় রোবটের ব্যবহার বাড়ছে।’ ম্যাককিনসে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে প্রযুক্তির যে অগ্রগতি চলছে তাতে বিশ্বের অর্ধেক কাজই একসময় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি দ্বারা সম্পাদিত হবে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা