kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

পুকুরেও গলদা চিংড়ি

নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি   

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুকুরেও গলদা চিংড়ি

কালীগঞ্জের সোহাগ মৎস্য খামারে প্রথমবারের মতো গলদা চিংড়ি চাষ হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

মিঠা পানির পুকুরে গলদা চিংড়ি চাষ হতে পারে তা অনেকের কাছেই অবিশাস্য। এ কারণে শনিবার সকালে মহাদেবপুর গ্রামে সোহাগ মৎস্য খামারে ভিড় করেছিল অসংখ্য মানুষ। মাছ দেখতে ও কিনতে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি শহর থেকেও লোকজন এসেছিল। সেদিন খামার থেকেই প্রায় ৫০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি হয়ে যায়। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নে এই প্রথম গলদা চিংড়ির চাষ হয়েছে।

সোহাগ কুমার বিশ্বাস জানান, তাঁর বাবা স্বপন কুমার বিশ্বাস চার বছর ধরে পুকুরে কার্পজাতীয় মাছ চাষ করে আসছিলেন। সেই সূত্রে নিজেকে একজন সফল মৎস্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন। স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা আইইউবিএটি থেকে কৃষিতে অনার্স শেষ করলেও ইন্টার্ন করেন মৎস্য চাষের ওপর। ২০১৮ সালে মংলায় গাজী ফিশ ফার্ম থেকে সফলতার সঙ্গে ইন্টার্ন শেষে গ্রামে ফিরে এসে বাবার সঙ্গে মাছ চাষ শুরু করেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে তিনি পাবদা ও গুলশা মাছের চাষ করেন। কার্পজাতীয় মাছের তুলনায় এ জাতীয় মাছ চাষে অধিক মুনাফাও পেয়েছেন। এ বছর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুর রহমান রেজার পরামর্শে ৬৬ শতাংশ জলকরে গলদা চিংড়ির সঙ্গে রুই-কাতলা ও সিলভারকার্প মাছের চাষ করেন।

সোহাগ জানান, এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে বাগেরহাটের একটি মৎস্য খামার থেকে পি এল সাইজের (১০০ টিতে কেজি) তিন হাজার ২০০ পিস গলদা চিংড়ি এবং তিন হাজার পিস কার্পজাতীয় মাছ ছাড়া হয়। প্রতিটি গলদা চিংড়ি ১৮ টাকা দরে কেনা হয়।

তিনি বলেন, পুকুর প্রস্তুতকরণ, মাছের খাবার, প্রোবায়োটিক ও শ্রমিক খরচ বাবদ সাত মাসে তাঁর প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সময়মতো খাবার ও সঠিক পরিচর্যা করায় মাছের ওজনও ভালো এসেছে। ৬৬ শতাংশ এই পুকুর থেকে ৩৫০ কেজি চিংড়ি ও এক হাজার কেজি কার্পজাতীয় মাছ পাবেন বলে আশা করছেন। সব ঠিকঠাক থাকলে চিংড়ি থেকে কমপক্ষে তিন লাখ টাকা ও কার্পজাতীয় মাছ থেকে আরো তিন লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা যাবে। সব মিলিয়ে খরচ বাদে কমপক্ষে তিন লাখ টাকা নিট মুনাফা পাবেন বলে তিনি ধারণা করছেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুর রহমান রেজা জানান, কালীগঞ্জের মাটি, পানি ও আবহাওয়া গলদা চিংড়ি চাষের উপযোগী। গলদা চিংড়ি চাষ লাভজনক হওয়ায় উপজেলার মৎস্য চাষিদের চিংড়ি চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন। কেউ চিংড়ি চাষে এগিয়ে এলে উপজেলা মৎস্য অফিস তাঁদের সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা