kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষে নতুন সম্ভাবনা

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষে নতুন সম্ভাবনা

রাণীনগরে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন তুষার।

মাছে-ভাতে বাঙালি কথাটা সত্য, কিন্তু বর্তমানে দেশে নদী-নালা ও খাল-বিলে আগের মতো তেমন আর দেশি প্রজাতির মাছের দেখা মিলছে না। নতুন করে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করতে গিয়ে কৃষিজমির পরিমাণও কমে যাচ্ছে। মাছ উৎপাদন করতে গেলে ধান উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এমন সংকটকালে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের বিষয়টি নতুন সম্ভাবনার। এ চিন্তা থেকেই নওগাঁর রাণীনগরে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সামিউল আলম খান তুষার নামের এক যুবক। বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষে কোনো পুকুর, খাল-বিল বা নদী-নালার প্রয়োজন হয় না। বাড়ির পাশে খলিয়ানে বা উঠানে ইট-সিমেন্ট দিয়ে ট্যাংকি তৈরি করে অল্প জায়গায় তা চাষ করা যায়।

উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কুজাইল খানপাড়া গ্রামের মাহবুর আলম খানের ছেলে সামিউল আলম খান তুষার। ডিজিটাল প্রযুক্তির বদৌলতে ইউটিউবে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাবেক এক মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় তিন দিনের বনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তুষার। প্রশিক্ষণ শেষে বাবা মাহবুবুর আলমের সহযোগিতায় পড়ালেখার পাশাপাশি বাড়তি কিছু আয়ের লক্ষ্যে স্বল্প পরিসরে রাণীনগরে এই প্রথম বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। বাড়ির পাশের খলিয়ানে ২০১৯ সালের শেষের দিকে দুটি ট্যাংকিসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করে পরীক্ষামূলকভাবে শিং মাছের চাষ করেন। কিন্তু মাছ ছাড়ার পর রোগ বালাইয়ের আক্রমণে শুরুতেই তার ছন্দপতন হয়। হাল না ছেড়ে স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তার পরামর্শে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেন তুষার। তার পরও তুষার বলছেন, ‘আমার ট্যাংকিতে যে পরিমাণ মাছ আছে বাজারদর ভালো পেলে অনেক বাধা-বিপত্তির পরও আমার লাভ হবে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যবসা একটু ভালো করতে পারলে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য আমার ভারতে যাওয়ার খুব শখ। আমাদের দেশে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ এখনো তেমন অগ্রগতি হয়নি। তবে যে পরিমাণ গবেষণা চলছে আগামী দু-এক বছরের মধ্যে এই পদ্ধতির মাছ চাষ ব্যাপক সাড়া জাগাবে এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ পদ্ধতিতে মাছের মলমূত্র এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে প্রক্রিয়াকরণ করে তা ফের মাছকে খাওয়ানো যায়। এতে খরচ যেমন কমে, তেমনি ফ্লোক উৎপাদনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় ক্ষতিকারক অ্যামোনিয়া গ্যাস।’

উপজেলা মৎস্য অফিসার শিল্পী রায় বলেন, ‘বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ লাভজনক। সামিউল ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাছের চাষ শুরু করেছে। আমার দপ্তর থেকে যথাযথ পরামর্শ দিয়ে আসছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা