kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

হিমায়িত মাংস আমদানি বন্ধের দাবি খামার মালিকদের

► বাংলাদেশে দুধ ও মাংস উৎপাদনকারী খামারির সংখ্যা প্রায় আট লাখ
► উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পরেও প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ আমদানি করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হিমায়িত মাংস আমদানি বন্ধের দাবি খামার মালিকদের

১০ দফা দাবিতে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভারত থেকে হিমায়িত মাংস আমদানি বন্ধ ও টিসিবির মাধ্যমে গোখাদ্য আমদানি করে স্বল্পমূল্যে খামারিদের মধ্যে বিতরণ করাসহ দেশের দুগ্ধ ও মাংস শিল্পের উন্নয়নে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে আসা খামারিদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন তাঁদের ১০ দফা দাবি পড়ে শোনান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দুধ ও মাংস উৎপাদনকারী খামারির সংখ্যা প্রায় আট লাখ। গত আট বছরে খামারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এই পেশার সঙ্গে বর্তমানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় দুই কোটি মানুষ। মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ হয়েছে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দুধ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পরেও প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ মাংস আমদানি করা হয়। শুধু ২০২০ সালে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১ মিলিয়ন ইউএস ডলার ফ্রোজেন প্যাকেট মাংস আমদানি করা হয়েছে। খামারশিল্প কৃষির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরেও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ বিল এবং কর রেয়াত সুবিধা না থাকায় এই শিল্প চরমভাবে অবহেলিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি করোনাকালে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা পাননি এই শিল্পের কৃষকরা।’

তাঁদের ১০ দাবি হলো—সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে পশুখাদ্য আমদানি করে প্রতিটি উপজেলায় খামারিদের মাঝে দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা করা, দেশের মাংসশিল্পকে রক্ষার জন্য ভারত থেকে হিমায়িত মাংস আমদানি বন্ধ করা, বাণিজ্যিক হারের বদলে কৃষি খাতের হারে পশুর খামারের বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ করা, আগামী ২০ বছর আয়কর রেয়াত দেওয়া। অ্যান্টি ডাম্পিং ট্যাক্স আরোপের মাধ্যমে গুঁড়া দুধ আমদানিতে শুল্কহার বাড়িয়ে শতভাগ করা, আমদানি কমিয়ে দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গুঁড়া দুধের প্লান্ট নির্মাণ করে দেশীয় শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া, আমদানি করা নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে অস্বাস্থ্যকর কনডেনসড মিল্ক তৈরি বন্ধ করে দেশীয় দুধ ও কাঁচামাল দিয়ে কনডেনসড মিল্ক তৈরি করা, খামারিদের বিনা জামানতে কম সুধে ঋণসুবিধা দেওয়া, ডেইরি বোর্ড গঠন এবং পশু ভ্যাকসিন, ওষুধ এবং চিকিৎসা সেবা সহজতর করা এবং বিনা মূল্যে দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আলী আজম রহমান শিবলী, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ ইমরান, সহসাধারণ সম্পাদক নাজিম উল্লাহ প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা