kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

লিকে মনে রাখবে স্যামসাং পরিবার

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লিকে মনে রাখবে স্যামসাং পরিবার

চলে গেলেন এক স্বপ্নদ্রষ্টা, যিনি স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসা থেকে স্যামসাংকে বিশ্বসেরা উদ্ভাবক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের চেয়ারম্যান লি কুন-হি। গতকাল রবিবার ৭৮ বছর বয়সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে স্যামসাং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

২০১৪ সালের মে মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে হাসপাতালে ছিলেন লি। তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বাইরে খুব কম তথ্য প্রকাশ করা হতো। তবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব পালন করছেন তাঁর ছেলে ও স্যামসাংয়ের ভাইস চেয়ারম্যান লি জে-ওং।

বিবৃতিতে বলা হয়, লির স্মৃতি ধারণ করবে স্যামসাং পরিবার। পথচলায় তাঁকে পেয়ে আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত স্বপ্নদ্রষ্টা। লি চেয়ারম্যান থাকাকালীন স্যামসাং ইলেকট্রনিকস দ্বিতীয় শ্রেণির টেলিভিশন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। লির নেতৃত্বেই স্যামসাং বিশ্বের বৃহত্তম স্মার্টফোন ও মেমোরি চিপ নির্মাতা হিসেবে উঠে এসেছে। ১৯৩৮ সালে লির বাবা লি বিয়ং চুল স্যামসাং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। লি ছিলেন তাঁর মা-বাবার তৃতীয় সন্তান। তিনি ১৯৬৮ সালে পারিবারিক ব্যবসায়ে যোগ দেন। ১৯৮৭ সালে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর তিনি স্যামসাংয়ের চেয়ারম্যানের পদে অধিষ্ঠিত হন। ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম ধনকুবের। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ২১ বিলিয়ন ডলার। দক্ষিণ কোরিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের এক-পঞ্চমাংশেই অবদানই রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

কোরীয় ভাষায় স্যামসাংয়ের অর্থ তিন তারকা। স্যামস্যাং শুধু মোবাইল ফোনের ব্যবসাই করে না, পাশাপাশি আরো অনেক ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো জাহাজ নির্মাণকেন্দ্র। এর আয়তন ৪০ কোটি বর্গফুট, যা গড়পড়তা ২০৫টি ফুটবল মাঠের সমান। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু দালান বুর্জ আল খলিফা নির্মাণ করেছে স্যামসাং। মোট আয় ৩০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার (২০১৪)। ২০১৩ সালে শুধু বিজ্ঞাপনে খরচ করেছে এক হাজার ৪০০ কোটি ডলার। চার লাখ ৮৯ হাজার কর্মী কাজ করে, যা অ্যাপল, গুগল ও মাইক্রোসফটের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়ে বেশি।

স্যামসাং ১৯৯০ সালে একটি আন্তর্জাতিক করপোরেশন হয়ে ওঠা শুরু করে। স্যামসাং কনস্ট্রাকশন ব্রাঞ্চ মালয়েশিয়ায় দুই পেট্রোনাস টাওয়ার্স, তাইওয়ানের তাইপে ১০১ করে। ১৯৯৩ সালে লি কুন-হি, স্যামসাং গ্রুপের অধীন কম্পানির ১০ শতাংশ বিক্রি বন্ধ, কম্পানি ডাউনসাইজড এবং (ইলেকট্রনিকস, প্রকৌশল এবং রাসায়নিক) তিনটি শিল্প মনোযোগ দেয়।

১৯৯২ সালে বিশ্বের বৃহত্তম মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারক হয়ে ওঠে স্যামসাং এবং ইন্টেল পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিপ প্রস্তুতকারক। ১৯৯৫ সালে, এটি তার প্রথম লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে পর্দা তৈরি করে। ১০ বছর পরে, স্যামসাং লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে প্যানেল বিশ্বের বৃহত্তম প্রস্তুতকারক হিসেবে বৃদ্ধি পায়। এএফপি, উইকিপিডিয়া

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা