kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

মান সনদ আরো ৪৩ পণ্যে

সোনার মান যাচাই করবে বিএসটিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোনার মান যাচাই করবে বিএসটিআই

গতকাল বিএসটিআইর ৩৪তম কাউন্সিল সভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। এতে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন সভাপতিত্ব করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভোক্তাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনা করে সোনা, মেহেদি ও পাওয়ার লুমে তৈরি কটন শাড়িসহ ৪৩টি পণ্যকে বাধ্যতামূলক মান সনদের আওতাভুক্ত করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। গতকাল রবিবার সংস্থাটির ৩৪তম কাউন্সিল সভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। এতে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন সভাপতিত্ব করেন।

এ ছাড়া লো ফ্যাট মিল্ক, ফ্লেভারড মিল্ক, আইস ললি, ডিশ ওয়াশিং লিকুইড, লিকুইড টয়লেট ক্লিনার, নেইলপলিশ, গোল্ড (সোনা), পাওয়ার লুমে তৈরি কটন শাড়ি, প্যাসেঞ্জার কার টায়ার ও রিম, হলো ক্লে ব্রিক্স ও ব্লকস, পাওয়ার ট্রান্সফরমারসহ নতুন ৪৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যকে বাধ্যতামূলক মান সনদের আওতাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসটিআই।

এর ফলে এসব পণ্য বাধ্যতামূলক মান সনদ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় যোগ হলো। শিল্প মন্ত্রণালয়ের যাচাই এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পর প্রজ্ঞাপন জারি হলে এসব পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের আগে বিএসটিআই থেকে মান সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।

এত দিন পর্যন্ত বিএসটিআই থেকে ১৮১টি পণ্যের মান সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এসব পণ্য দোকানে বিক্রির পাশাপাশি অনলাইনে বিক্রির ক্ষেত্রেও মান সনদ নিতে হয়।

সম্প্রতি তিনটি পণ্যের মান সনদ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন পণ্যগুলোর মান সনদ বাধ্যতামূলক হলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ২২৭। নতুন করে মান সনদের আওতায় আসা সোনার মান এখন শুধু বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা গোল্ড ও বাংলা গোল্ড নামের দুটি ল্যাবে হলমার্কিংয়েই নির্ধারিত হয়। রাজধানীর তাঁতীবাজারে প্রতিষ্ঠিত ল্যাব দুটি পরীক্ষা করে ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের সনদ দেয়। বিএসটিআই হলমার্কিং করলে সরকারিভাবে এটিই হবে প্রথম। এ জন্য বিএসটিআইতে প্রয়োজনীয় ল্যাব তৈরি হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সভায় গুণগত শিল্পায়নের চলমান ধারা জোরদারে বিএসটিআইকে শক্তিশালীকরণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংবলিত ল্যাবরেটরির সুবিধার প্রসার, প্রাতিষ্ঠানিক জনবল বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ সুবিধা জোরদার, কর্তকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, যাতায়াত ও প্রণোদনার সুযোগ বাড়ানো এবং হালাল খাদ্যের রপ্তানি বাড়াতে বিএসটিআইকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

সভায় জেলাপর্যায়ে বিএসটিআইয়ের অফিস সম্প্রসারণ ও সেবাদান কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে বিদ্যমান আটটি বিভাগীয় অফিসের পাশাপাশি আরো ১৩টি আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের মাধ্যমে মোট ৬৪টি জেলায় কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের বাইরে অবস্থিত ৪৩টি জেলায় মোবাইল কোর্ট, ফ্যাক্টরি পরিদর্শন ও সার্ভেইল্যান্স পরিচালনার স্বার্থে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করে নিজস্ব অফিস স্থাপন এবং সীমিত জনবল দিয়ে তা পরিচালনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

সভায় শিল্পমন্ত্রী বিশ্ববাজারের হালাল পণ্য রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিএসটিআইকে দ্রুত হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ ও মান সনদ প্রদানের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগ্যতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। এই লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠানটির জনবলের উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা