kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতাই টেকসই খাদ্য ব্যবস্থায় বাধা

খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করবে দরিদ্রদের জন্য ফুড প্যাকেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করবে দরিদ্রদের জন্য ফুড প্যাকেজ

দেশে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন যথেষ্ট ভালো হলেও সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা টেকসই খাদ্য ব্যবস্থায় বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন খাদ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা এও বলেছেন, যথাযথ নজরদারির অভাব এবং সুশাসনের ঘাটতির কারণে নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ আয়োজিত ‘টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা : চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় এ বিষয়গুলো উঠে আসে।

খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাজমানারা খানুম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আরিফুর রহমান অপু। সম্মাননীয় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদসহ অন্যরা।

সভায় বক্তারা বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে দেশে জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত। করোনার প্রভাবে খাদ্য ও পুষ্টির সংকট বাড়ার পাশপাশি নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে কোটি মানুষ। এর সঙ্গে বাড়তি দুর্যোগ হিসেবে যোগ হয়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে আবাদযোগ্য জমির তুলনায় উৎপাদন যথেষ্ট ভালো হলেও সরবরাহব্যবস্থার সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। রয়েছে নজরদারির সমস্যা। সর্বোপরি সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। আবার শুধু চাল দিয়েই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; এর সঙ্গে থাকতে হবে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ। করোনা একটি নতুন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তাতে আরো মানুষ দারিদ্র্যে পতিত হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে; সত্যিকার অর্থে যেটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। দরিদ্র আর অতিদরিদ্র মানুষের সঠিক ও নির্ভরযোগ্য ডাটাবেইস এখনো করতে পারিনি, সেটি একটি বড় সমস্যা। খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হলে বছরব্যাপী দরিদ্র মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ ফুড প্যাকেজ অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, উন্নয়ন মানে রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্টের কেবল উন্নয়ন নয়; উন্নয়ন মানে সামাজিক উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন আর মানবিক উন্নয়ন।’

বিশেষ অতিথি আরিফুর রহমান অপু বলেন, ‘বিগত বছরের তুলনায় এ বছর সব ক্ষেত্রেই উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে পাঁচ দফা বন্যায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি মোকাবেলায় কৃষি মন্ত্রণালয় সচেষ্ট থেকে বীজ, সার, নগদ অর্থ সহায়তাসহ বিভিন্ন প্রণোদনার ব্যবস্থা করছে। এ ছাড়া বাড়িভিত্তিক পুষ্টিবাগান, কৃষির ম্যাকানাইজেশন বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।’ ড. নাজনীন আহমেদ আলুর মূল্যবৃদ্ধির উদাহরণ দিয়ে তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘শুধু খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করলেই হবে না; পণ্যের যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি, যা আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি আয়েও ভূমিকা রাখবে।’

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘সরকারের একার পক্ষে কিছু সম্ভব নয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত ও এনজিওদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নের বহুমাত্রিকতাকে বিবেচনায় নিতে হবে। উন্নয়ন হতে হবে মানবকেন্দ্রিক। সরকারের বিভিন্ন নীতি-আইন এবং উদ্যোগ ভালো হলেও রয়েছে বাস্তবায়নের সমস্যা। এটা প্রণোদনার ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। বাস্তবায়নের হার অত্যন্ত ধীরগতি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা