kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

লুব্রিক্যান্ট শিল্পে আমদানি নির্ভরতা কমাবে লুব রেফ

► পুঁজিবাজার থেকে মূলধন নেবে ১৫০ কোটি টাকা
► বিডিং শুরু ১২ অক্টোবর

রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম থেকে ফিরে   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লুব্রিক্যান্ট শিল্পে আমদানি নির্ভরতা কমাবে লুব রেফ

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে লুব রেফের কারখানা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশকে উন্নতির সোপানে এগিয়ে নিতে বাড়ছে শিল্পায়ন। আর শিল্পায়ন বাড়ায় কলকারখানা ও যানবাহনে বাড়ছে লুব্রিক্যান্টের চাহিদা। লুব্রিক্যান্টের এই চাহিদার ৮৫ শতাংশ এখন আমদানিনির্ভর। এই আমদানিনির্ভরতা কমাতে বেইস অয়েল রিফাইনারি প্লান্ট স্থাপন করবে লুব রেফ (বাংলাদেশ) লিমিটেড। আর এই প্লান্ট স্থাপনে পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা মূলধন তুলবে কম্পানিটি।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, লুব্রিক্যান্টস শিল্পে দেশকে স্বনির্ভর করে বিদেশে রপ্তানি করার লক্ষ্যে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে। বাজারে ‘বিএনও’ ব্র্যান্ড এনেছে। বেইস অয়েল রিফাইনারি প্লান্টে ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে কম্পানি। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে লুব্রিক্যান্টসের সম্ভাবনা দেখে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। জানা যায়, লুব্রিক্যান্ট শিল্পে লুব রেফ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বর্তমানে মার্কেট শেয়ার ১০ শতাংশ। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে লুব্রিক্যান্টসের বাজারের ২০ শতাংশে নিতে চায়। এ লক্ষ্যে আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। এই খাতের বিপুল চাহিদার কথা বিবেচনা করে প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কর্ণফুলী নদীর তীরে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল থিম পার্ক প্রতিষ্ঠা করবে, যাতে দেশের সর্বপ্রথম বেইস অয়েল রিফাইনারি প্লান্ট স্থাপন করবে। চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে রয়েছে কম্পানির বর্তমান প্লান্ট। দ্বিতীয় প্লান্ট স্থাপন করবে কর্ণফুলী নদীর তীরে জুলদায়।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবছর দেশে এক লাখ ৬০ হাজার মেট্রিন টন লুব্রিক্যান্ট চাহিদা রয়েছে। শিল্পায়ন বাড়ায় লুব্রিক্যান্টের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। উন্নত বাংলাদেশের সোপানে এগিয়ে শিল্পায়ন যতই বাড়বে, লুব্রিক্যান্টের ব্যবহার ততই বাড়বে। তবে এই লুব্রিক্যান্টের বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। লুব্রিক্যান্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। পোড়া লুব্রিক্যান্ট মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়, যা জমির উর্বরতা কমায়। পানিতে পড়লে ভেসে থাকে।

লুব রেফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, পেট্রোকেমিক্যাল ও লুব্রিক্যান্ট শিল্পে প্রায় চার দশকের অভিজ্ঞতা। স্থানীয় প্লান্টে বিশ্বমানের লুব্রিক্যান্ট প্রস্তুত করে এরই মধ্যে বাজারের আস্থা অর্জন করেছে ‘বিএনও’ ব্র্যান্ড। এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কর্ণফুলী নদীর তীরে দেশের সর্বপ্রথম বেইস অয়েল রিফাইনারি প্লান্ট স্থাপিত হবে। এ লক্ষ্যে পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করা হবে। এই মূলধন দিয়ে নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়, ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও প্রাথমিক গণপ্রস্তাব খাতে ব্যয় করা হবে।

তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর এক লাখ ৬০ হাজার টন লুব্রিক্যান্টের চাহিদা রয়েছে, যা বেশির ভাগ আমদানি করা হয়। শিল্পায়ন দ্রুত বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে লুব্রিক্যান্টের চাহিদা। অটোমোবাইল খাতে প্রতিবছর ১০ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। সমুদ্রপথে পণ্য আমদানি নিরাপদ হওয়ায় মেরিন সেক্টরে লুব্রিক্যান্টের চাহিদা বাড়ছে।

লুব রেফের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কম্পানির লুব্রিক্যান্ট উৎপাদন সক্ষমতা ও বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে। এতে লুব্রিক্যান্ট তেল আমদানিনির্ভরতা কমবে।

লুব রেফের বিডিং শুরু ১২ অক্টোবর : বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলনে কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণে লুব রেফের বিডিং শুরু হবে আগামী ১২ অক্টোবর। ওই দিন বিকেল ৫টা থেকে ১৫ অক্টোবর ৫টা পর্যন্ত বিডিং চলবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা