kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

খেলাপি না করার সময় আরো তিন মাস বাড়ল

ঋণ শোধ না করলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণের শ্রেণিমানে কোনো পরিবর্তন হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খেলাপি না করার সময় আরো তিন মাস বাড়ল

মহামারি করোনার নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় ঋণগ্রহীতাদের খেলাপি না করার সময়সীমা আরো তিন মাস বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো ঋণগ্রহীতা ঋণ শোধ না করলেও ঋণের শ্রেণিমানে কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না। অর্থাৎ ১ জানুয়ারি ঋণটি যে মানে শ্রেণীকৃত ছিল, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই একই মানেই রাখতে হবে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এতে বকেয়া ঋণের কিস্তিগুলো কিভাবে নির্ধারিত হবে সেটাও বলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রথম দফায় জুন পর্যন্ত এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই সময় বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর করা হয়েছিল। করোনার ভীতি কাটলেও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, কভিড-১৯-এর কারণে অর্থনীতির অধিকাংশ খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় অনেক শিল্প, সেবা ও ব্যবসা খাত তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এটি বিবেচনায় নিয়ে ঋণগ্রহীতার ব্যবসায়ের ওপর কভিড-১৯-এর নেতিবাচক প্রভাব সহনীয় মাত্রায় রাখার লক্ষ্যে ঋণের শ্রেণিমান পরিবর্তন না করার সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে ঋণের শ্রেণিমান যা ছিল, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ওই ঋণটি তদাপেক্ষা বিরূপমানে শ্রেণীকরণ করা যাবে না। তবে কোনো ঋণের শ্রেণিমানের উন্নতি হলে তা যথাযথ নিয়মে শ্রেণীকরণ করা যাবে।

এতে আরো বলা হয়, ১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে বিদ্যমান মেয়াদি (স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ ও ক্ষুুদ্রঋণসহ) ঋণের বিপরীতে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর সময়কালীন প্রদেয় কিস্তিগুলো বিলম্বিত হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে সংশ্লিষ্ট ঋণের কিস্তির পরিমাণ ও সংখ্যা পুনর্নির্ধারিত হবে। পুনর্নির্ধারণকালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যত সংখ্যক কিস্তি প্রদেয় ছিল তার সমসংখ্যক কিস্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের কোনো কিস্তি পরিশোধিত না হলেও ওই কিস্তির জন্য মেয়াদি ঋণগ্রহীতারা কিস্তি খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন না। ১ জানুয়ারি তারিখে বিদ্যমান চলমান ও তলবি ঋণ এবং ওই তারিখ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে সৃষ্ট তলবি প্রকৃতির ঋণের মেয়াদ সমন্বয়ের তারিখ বিদ্যমান মেয়াদ থেকে ১২ মাস বা ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ (যেটি আগে ঘটে) পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এ সুবিধা চলাকালীন ঋণের ওপর সুদ হিসাবায়নের ক্ষেত্রে এসংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা বলবৎ থাকবে। তবে ওই সময়ে ঋণের ওপর কোনোরূপ দণ্ড সুদ বা অতিরিক্ত ফি আরোপ করা যাবে না। কোনো গ্রাহকের এ সুবিধা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত না হলে পূর্বনির্ধারিত পরিশোধসূচি অনুযায়ী অথবা ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণের অর্থ সমন্বয় করা যাবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা