kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

স্বচ্ছতা বাড়াতে আরো এক ধাপ

৩০% শেয়ার ধারণে বিএসইসির কড়াকড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩০% শেয়ার ধারণে বিএসইসির কড়াকড়ি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানিতে স্বচ্ছতা ফেরাতে কঠোর হচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। উদ্যোক্তা ও পরিচালক ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থতার কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে কমিশন। কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ কম্পানির বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

গত ২৯ জুলাই ৪৪ কম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে সময়সীমা বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বেঁধে দেওয়া ৬০ দিনের মধ্যে এই শর্ত পরিপালনে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। তিন কম্পানি এই শর্ত মানতে শেয়ার কিনলেও ৪১ কম্পানি এখনো শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে। শর্ত পরিপালনে তিন কম্পানি শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছে।

সূত্র জানায়, কম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার কিনতে বাধ্যবাধকতা আরোপ করে কম্পানিকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠি ইস্যুর দিন থেকে ৬০ দিন সময় বেঁধে দিয়ে শর্ত পরিপালনে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আলটিমেটামের পর কয়েকটি কম্পানি শর্ত মানতে আগ্রহ দেখালেও বড় অংশই এখনো শর্ত মানতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এসব কম্পানি শর্ত মানতে আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত শেয়ার কেনার সময় পাবে।

জানা যায়, কম্পানির পরিচালকদের ২ শতাংশ করে শেয়ার ধারণ বাধ্যবাধকতা থাকলেও দীর্ঘদিন সেটা অকার্যকর ছিল। আইনে থাকলেও বাস্তবায়নে কঠোর না হওয়ায় কার্যকর হয়নি। তবে বর্তমান কমিশন এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় এই আইন কার্যকর হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ ৯ কম্পানির ১৭ পরিচালকের পদ শূন্য করা হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারধারীদের মধ্য থেকে নতুন পরিচালক নির্বাচিত করা হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হওয়া পরিচালকদের মতো কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। তবে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নাকি জরিমানা করে আইনের আওতায় আনা হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আবার শর্ত মানতে ব্যর্থ হওয়া কম্পানির বিরুদ্ধে বোনাস শেয়ার বা অন্য কোনো উপায়ে মূলধন উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে কমিশন।

সূত্র জানায়, গত ২৯ জুলাই পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কম্পানিগুলোকে ৬০ কার্যদিবস সময় বেঁধে দেয় বিএসইসি। এই নির্দেশনা দেওয়ার পরে বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স ও এমারেল্ড অয়েল শেয়ার কিনে নির্দেশনা পরিপালন করেছে। এ ছাড়া মেঘনা লাইফ ইনস্যুরেন্স, কে অ্যান্ড কিউ ও পিপলস ইনস্যুরেন্সের উদ্যোক্তা/পরিচালকরা শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। আর সাউথইস্ট ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা উপহার হিসেবে শেয়ার গ্রহণ করে শর্ত পরিপালনের পথে এগিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান কমিশন পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আইন ব্যত্যয় হওয়া কম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হওয়া কম্পানির বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে বিষয়ে আলোচনা হয়নি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা