kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

করোনায় উৎপাদন বন্ধ করল রিং সাইন টেক্সটাইল

► তিন মাসে লোকসান প্রায় ৮ কোটি টাকা
► ৯ মাসে মুনাফা কমেছে ১২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা

রফিকুল ইসলাম   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় উৎপাদন বন্ধ করল রিং সাইন টেক্সটাইল

ব্যবসা সম্প্রসারণে পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা মূলধন তুলেছে শতভাগ রপ্তানিমুখী রিং সাইন টেক্সটাইল। গত বছর তালিকাভুক্ত হলেও বছর না গড়াতে লোকসানে পড়েছে কম্পানিটি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ তৃতীয় প্রান্তিকে কম্পানিটির লোকসান হয়েছে প্রায় আট কোটি টাকা। বৈশ্বিক মহামারির কারণে বিদেশি ক্রেতার পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া ও কাঁচামালের সংকটের কারণ দেখিয়ে এক মাস কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করে রিং সাইন। মূলধন উত্তোলনের প্রক্রিয়া শেষ করে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর লেনদেন শুরু হয়। ওই সময় কম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়লেও পরবর্তী সময় কমতে কমতে ফেসভ্যালুর নিচে নেমে যায়।

স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্যানুযায়ী, শেয়ার ছেড়ে উত্তোলিত মূলধন দিয়ে মেশিনারিজ ক্রয়, ঋণ পরিশোধ ও আইপিও খাতে খরচ করার কথা জানায় কম্পানিটি। রিং সাইন টেক্সটাইল ইয়ার্ন, স্পিনিং, ফ্লিচ ফ্যাব্রিকস নিটিং ও ফ্লিচ ফ্যাব্রিকস ডায়িং অ্যান্ড ফিনিশিং পণ্য উৎপাদন করে, যা আমেরিকা, জার্মানি, সুইডেন, ইতালি ও কানাডায় রপ্তানি করে।

ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ডিইপিজেড) রিং সাইনের রেজিস্টার্ড অফিস ও কারখানা। ইপিজেড থেকে ৩০ বছর মেয়াদে এক লাখ ৩৫ হাজার ৪৮৪ স্কয়ার মিটার জমি ইজারা নিয়েছে। যাতে ৫৯টি প্লট ও ১২টি ভবন রয়েছে।

কম্পানিটি জানায়, তারা ক্রমাগতভাবে মুনাফা করছে। ২০১৩ সালে নিট মুনাফা ছিল ৯৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের জুন হিসাব অনুযায়ী, নিট মুনাফা হয় ৫৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে মুনাফা করে ৪৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

২০১৯-২০ অর্থবছর শেষ হয়েছে। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে কম্পানিটির মুনাফা হয়েছে ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা আগের বছর ছিল ৪২ কোটি চার লাখ টাকা। সেই হিসাবে ১২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা মুনাফা কমেছে। প্রথম ছয় মাসে মুনাফা হলেও সর্বশেষ জানুয়ারি থেকে মার্চ তিন মাসে লোকসানে পড়েছে রিং সাইন।

আর্থিক হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ৫১৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করে মুনাফা হয় ৩৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আগের বছর এই মুনাফা ছিল ২৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ তৃতীয় প্রান্তিকে রিং সাইন লোকসান করেছে সাত কোটি ৯১ লাখ টাকা। লোকসানের বিষয়ে কম্পানি কর্তৃপক্ষ বলছে, বৈশ্বিক মহামারির কারণে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদিত পণ্যের ক্রেতারা বিদেশি হওয়ায় করোনার সময় পণ্যের চাহিদা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। উৎপাদন সচল থাকলেও ক্রেতা না থাকায় লোকসান হয়েছে।

উৎপাদন বন্ধ রাখার বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জকে কম্পানিটি জানিয়েছে, আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত কারখানা এক মাস বন্ধ থাকবে। কম্পানির প্রধান হিসাব কর্মকর্তা আশরাফ আলী বলেন, ‘আশা করছি এই সময়ের মধ্যে দ্রুতই কারখানা চালু হবে।’

মন্তব্য