kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অক্টোবর থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ

এখনো চড়া সুদ ক্রেডিট কার্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এখনো চড়া সুদ ক্রেডিট কার্ডে

ক্রেডিট কার্ডের সুদ নির্ধারণে আবারও গ্রাহকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলো। অন্য সব খাতে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হলেও ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকদের গুনতে হবে এর দ্গুিণেরও বেশি। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ২০ শতাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এত দিন অন্য যেকোনো ঋণের সর্বোচ্চ সুদের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বেশি সুদ ক্রেডিট কার্ডে আরোপের নির্দেশনা ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। কিন্তু ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা ভেঙে ক্রেডিট কার্ডে ইচ্ছামতো সুদ আদায় করছিল। ১ এপ্রিল থেকে অন্য সব ঋণের সর্বোচ্চ সুদ ৯ শতাংশ নামিয়ে আনায় ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ সুদ ১৪ শতাংশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যাংকগুলো আগের মতোই ২৭ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আদায় করছিল ক্রেডিট কার্ডে। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকেও ক্রেডিট কার্ডের সুদ পুনর্নির্ধারণের দাবি উঠেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ১ অক্টোবর থেকে এই সুদহার কার্যকর হবে।

গ্রাহকদের অনেকেই বলছেন, এবার সুদহার নির্ধারণে ব্যাংকের স্বার্থ দেখা হয়েছে। তা না হলে অন্য সব খাতের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি সুদ ক্রেডিট কার্ডে নির্ধারণ করে দিত না বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট কার্ডে ইচ্ছামতো সুদ আদায় বন্ধ হবে।

সার্কুলারে বলা হয়, ২০১৭ সালের ৩ আগাস্ট ক্রেডিট কার্ড বিষয়ে একটি নীতিমালা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে বলা হয়েছিল, ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অন্যান্য ঋণের সুদের সর্বোচ্চ সুদহারের চেয়ে ৫ শতাংশের বেশি হবে না এবং এই সুদহার শুধু অপরিশোধিত বকেয়া স্থিতির ওপর প্রযোজ্য হবে। ওই নীতিমালার নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ডে নির্ধারিত সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ আগাম হিসেবে নগদ উত্তোলন করা যাবে এবং ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে গ্রাহককে কোনো আনসলিসিটেড ঋণ বা অন্য কোনো সুবিধা দেওয়া যাবে না।

কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে যে কোনো কোনো ব্যাংক ওই নির্দেশনা লঙ্ঘন করে ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন প্রকার নগদে উত্তোলনযোগ্য ঋণসুবিধা দিচ্ছে; যা ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে এবং এ ধরনের ঋণের ওপর ফ্ল্যাট রেটে অযৌক্তিকভাবে বেশি সুদ আরোপ বা আদায় করছে, যা গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে। এ ছাড়া কোনো কোনো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের পরিশোধ না করা বিলের ওপর লেনদেনের তারিখ থেকেই সুদ আরোপ এবং পরিশোধ না করা বিলের বিপরীতে ‘প্রগ্রেসিভ রেটে’ বিলম্ব ফি আদায় করছে।

এ অবস্থায় ক্রেডিট কার্ড লিমিটের বিপরীতে ঋণ সুবিধাসহ মুনাফা যৌক্তিকীকরণ এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার ২০ শতাংশের বেশি নির্ধারণ করা যাবে না। ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের জন্য নির্ধারিত সর্বশেষ তারিখের পরের দিন থেকে বিলের ওপর সুদ আরোপ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই লেনদেনের তারিখ থেকে সুদ আরোপ করা যাবে না। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী ক্রেডিট কার্ডের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদে উত্তোলনযোগ্য ঋণসুবিধা ছাড়া অন্য কোনো নামে নগদে উত্তোলনযোগ্য ঋণসুবিধা দেওয়া যাবে না। বিলম্বে পরিশোধিত কোনো বিলের বিপরীতে শুধু একবার বিলম্ব ফি (অন্য যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন) আদায় করা যাবে। এ ছাড়া আগের নীতিমালার অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বর্তমানে দেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা প্রায় ৬০টি। এর মধ্যে ৩৫টি ব্যাংকেরই ক্রেডিট কার্ডের সেবা রয়েছে। বর্তমানে ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহক ১৯ লাখ ১১ হাজার ১৭৩ জন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা