kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনায় থমকে আছে নতুন বিনিয়োগ

► জুলাইয়ে মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ
► শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের এলসিও কমছে
► বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধিতেও শনির দশা

জিয়াদুল ইসলাম   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় থমকে আছে নতুন বিনিয়োগ

মহামারি করোনায় নতুন বিনিয়োগ থমকে আছে। এ সময়ে বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কম দেখাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন সবাই। ফলে শিল্প স্থাপনের জন্য মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তি ব্যাপকহারে কমে গেছে। শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের এলসিও কমেছে। এতে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধিতেও চলছে শনির দশা।

অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিনিয়োগ না হলে নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে না, মানুষের কর্মসংস্থানও হবে না। ফলে গতি ফিরবে না বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধিতে। আর বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়লে জিডিপিও কমবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য মোটেও ভালো হবে না।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি খুবই নাজুক। মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের এলসি কমে যাওয়ার তথ্যে সেটি স্পস্ট হয়েছে। এর মানে একদিকে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না, অন্যদিকে শিল্পের বিদ্যমান সক্ষমতাও ব্যবহার হচ্ছে না। এর কারণ করোনার ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমেছে। অনেকেরই বড় মাত্রায় আয় কমেছে। এতে ২০-২৩ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে।

অন্যদিকে রপ্তানির অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। সব মিলিয়ে এটা সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাপ্ত তথ্য মতে, চলতি বছরের জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণস্থিতি ছিল ১০ লাখ ৯৭ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা। সেটি জুলাইয়ে প্রায় দুই হাজার ৬৬ কোটি টাকা কমে নেমে এসেছে ১০ লাখ ৯৫ হাজার ২০১ কোটি টাকায়। যদিও গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৯.২০ শতাংশ। গত অর্থবছরে ১৪.৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত জুনে বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি হয় মাত্র ৮.৬১ শতাংশ। এটি ছিল গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি।

দুই বছর আগেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির চিত্র এমন ছিল না। বেশ কিছু ব্যাংকের আগ্রাসী বিনিয়োগের কারণে ওই সময় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের শুরুতে বেসরকারি ঋণপ্রবাহের লাগাম টানতে ব্যাংকের ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) কিছুটা কমিয়ে আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে কয়েক দফা এডিআর সমন্বয়ের সীমা বাড়ানো হলেও ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। মূলত নতুন বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তারা ঋণের চাহিদা করছেন না। বরং বিদ্যমান ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রণোদনার আওতায় চলতি মূলধন ঋণ নিচ্ছেন সবাই। এতে নতুন শিল্প স্থাপনের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে মূলধনী আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে ৩৭৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের, যা গত অর্থবছরের জুলাইয়ে ছিল ৫৩৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। ফলে এ সময়ে এই পণ্যটির আমদানি এলসি কমেছে প্রায় ১৬০ কোটি ডলার বা ২৯.৮২ শতাংশ। এ সময়ে এই পণ্যটির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ২৫১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের জুলাইয়ে ছিল ৫৭০ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। ফলে এ সময়ে পণ্যটির এলসি নিষ্পত্তি কমেছে প্রায় ৩১৯ কোটি ডলার বা ৫৫.৯০ শতাংশ। আগের মাস জুনেও এই পণ্যটির এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি কমেছিল যথাক্রমে ২৪.২৩ ও ৮.৫১ শতাংশ।

অন্যদিকে এই সময়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসিও কমেছে। জুলাইয়ে গার্মেন্টের টেক্সটাইল ফ্যাব্রিকস ও অ্যাকসেসরিজ আমদানির এলসি খোলা কমেছে ১৮.৫২ শতাংশ। আর নিষ্পত্তি কমেছে ১৬.২১ শতাংশ। এ সময়ে কাঁচা তুলা ও সিনথেটিক ফাইবারের এলসি কমেছে ১০.২৪ শতাংশ। আর নিষ্পত্তি কমেছে ১৯.৪১ শতাংশ। আগের মাস জুনে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি কমেছিল যথাক্রমে ৬.৯২ ও ৯.৪২ শতাংশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা