kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রাণ ফেরাতে ১৩ সুপারিশ

৩৮ বছরেও সংকট কাটেনি রায়পুর হ্যাচারির

এখানে উৎপাদিত রেণু-পোনার গুণগত মান ভালো থাকায় দেশের অন্তত ৪০টি জেলায় তা সরবরাহ করা হয়

কাজল কায়েস, লক্ষ্মীপুর   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩৮ বছরেও সংকট কাটেনি রায়পুর হ্যাচারির

এশিয়ার মধ্যে বড় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (হ্যাচারি) নানা সংকটে ডুবতে বসেছে। রায়পুর হ্যাচারি নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি এখন চলছে জোড়াতালি দিয়ে। এ হ্যাচারিকে ঘিরে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে আসছে না। এতে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য। এখানে উৎপাদিত রেণু-পোনার গুণগত মান ভালো থাকায় দেশের অন্তত ৪০টি জেলায় তা সরবরাহ করা হয়। প্রতিবছর মৌসুমের সময় প্রতিযোগিতা দিয়ে চাষিরা তা সংগ্রহ করেন, কিন্তু চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহ করতে পারছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে খালি হাতে ফিরে যেতে হয় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৎস্য চাষিদের। সম্ভাবনাময় এ হ্যাচারির প্রাণ ফেরাতে দুই বছর আগে জনবল সংকটসহ ১৩টি সমস্যা চিহ্নিত করে সুপারিশ করেছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। তবে এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৮২ সালের জুনে ৫৪ একর জমিতে ৭৫টি পুকুর নিয়ে রায়পুর হ্যাচারির নির্মাণকাজ শেষ হয়। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী এ জেড এম ওবায়দুল্লাহ খান এটির উদ্বোধন করেন। গুণগত মানসম্পন্ন রেণু ও পোনার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং মাঠপর্যায়ে মৎস্য খাতের সঙ্গে নিয়োজিতদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে হ্যাচারিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে রায়পুর হ্যাচারি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তখন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নোমান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে সম্পূরক প্রশ্ন করে বলেছিলেন, জনবল সংকট, ভবন ও পুকুরগুলো জরাজীর্ণ থাকায় হ্যাচারিটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এটি সচল রাখার ব্যবস্থা করবেন কি না? জবাবে মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি অতি দ্রুত সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।’

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মৎস্য) অসীম কুমার বালা ও মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. রমজান আলী সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরে তাঁরা ১৩টি সমস্যা চিহ্নিত করে মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে তা সমাধানের জন্য সুপারিশ করেন। কিন্তু দুই বছরেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পলি জমে শুষ্ক মৌসুমে ২৬টি পুকুর পানিশূন্য হয়। পুকুর পারের রাস্তগুলো ভেঙে পড়ছে। পানি সরবরাহের সংযোগ দীর্ঘদিনেও সংস্কার হয়নি। অনেকাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংযোগ বিকল। প্রশাসনিক, আবাসিক, হ্যাচারি, গুদাম, রেস্টহাউস ভবনগুলো জরাজীর্ণ এবং ব্যবহারের অনুপযোগী। অনেকাংশে উঁচু সীমানাপ্রাচীর নেই। গাড়ি ও অন্যান্য সরঞ্জাম অপ্রতুল। লো-ভোল্টেজ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনায় বেগ পেতে হচ্ছে।

সূত্র জানায়, হ্যাচারিটিতে ৮১টি পদের মধ্যে ৬৪টিই শূন্য। মাত্র ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জোড়াতালি দিয়ে কাজ করছেন।

হ্যাচারির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে উৎপাদিত রেণু ও পোনার দেশ-বিদেশে খ্যাতি রয়েছে। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চাঁদপুর, যশোর ও গোপালগঞ্জসহ অন্তত ৪০টি জেলা থেকে প্রতি মৌসুমে চাষিরা এসে এখান থেকে রেণু-পোনা সংগ্রহ করে। চলতি বছরে প্রায় ৬২ লাখ টাকার পোনা ও রেণু বিক্রিতে রাজস্ব জমা হয়েছে।

এ ব্যাপারে রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহ করতে পারছি। তদন্ত কমিটির সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে এখানের উৎপাদিত পোনা-রেণু দিয়ে সারা দেশে বিপ্লব ঘটানো যাবে। অনুমোদিত লোকবল নিয়োগ দিলে উৎপাদন বৃদ্ধি করে কয়েক গুণ রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব হবে।’

মন্তব্য