kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নতুন যুগে রুপার বাজার

► ক্রেতা-বিক্রেতার সুবিধার্থে দেওয়া হলো হলমার্কিং
► দাম কিছুটা বাড়লেও মানে জিতবেন ভোক্তারা

রোকন মাহমুদ   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন যুগে রুপার বাজার

নতুন যুগে প্রবেশ করল দেশের রুপার বাজার। এত দিন মানের ক্ষেত্রে কোনো যাচাই-বাছাই পদ্ধতি না থাকলেও এখন থেকে করা হবে। প্রথমবারের মতো সোনার সঙ্গে মিল রেখে ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের হলমার্কিং করা হবে রুপার গয়নাও। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতিও থাকবে।

গয়না ব্যবসায়ীরা বলছেন, এর ফলে ব্যবসায়ীরা যেমন ভালো মানের রুপার গয়না চিনতে পারবেন তেমন ক্রেতারাও সে অনুসারে কিনতে পারবেন। ফলে ভোক্তারা আর ঠকবেন না। ক্রেতার পুরনো রুপার গয়না বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।

গতকাল সোমবার থেকে এই হলমার্কিং পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি-বাজুস। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নির্দেশনায় রুপার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন বাজুস সাধারণ সভাপতি দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। তিনি বলেন, ‘আগে আমরা একটা মানের রুপার দাম দিতাম। কিন্তু এটার কোনো সার্টিফিকেট ছিল না। এতে বাজার একটা এলোমেলো অবস্থায় ছিল। ভোক্তারাও প্রতারিত হচ্ছিলেন।’

গত রবিবার পর্যন্ত ২১ ক্যারেট মানের রুপার গয়নার দাম ছিল প্রতি গ্রাম ৮০ টাকা বা ৯৩৩ টাকা ভরি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষেই এটা এই মানের কি না তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। এখন থেকে ২১ ক্যারেট হলমার্ক করা রুপার গয়না কিনতে লাগবে গ্রামপ্রতি ১২৩ টাকা বা এক হাজার ৪৩৫ টাকা ভরি। এ ক্ষেত্রে দাম কিছুটা বেড়েছে।

তবে মানের দিক থেকে শতভাগ নিশ্চিত থাকতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সানন্দা জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রঞ্জিত ঘোষ। তিনি বলেন, ‘আসলে এত দিন যে মানের রুপা ৮০ টাকা গ্রাম ক্রেতা কিনেছেন সেটা এখনো পাওয়া যাবে। কিন্তু সেটার তেমন কোনো সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে না। ২১ ক্যারেট মানে ২১ ক্যারেটই। কোনো হেরফের হবে না। ফলে দাম কিছুটা বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক।’

এখন থেকে ২২ ক্যারেট হলমার্ককৃত প্রতি গ্রাম রুপার মূল্য হবে ১৩০ টাকা বা এক হাজার ৫১৬ টাকা ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম), ১৮ ক্যারেট হলমার্ককৃত প্রতি গ্রাম রুপার মূল্য ১০৫ টাকা বা প্রতি ভরি এক হাজার ২২৫ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম রুপার মূল্য ৮০ টাকা বা প্রতি ভরি ৯৩৩ টাকা।

গতকাল বাজুস থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভায় সোনার মতো রুপার মান নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এ ক্ষেত্রে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে রুপার অলংকার ব্যবসায়ীদের হলমার্কিংয়ের আওতায় আনার জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার থেকে বাংলাদেশের বাজারে রুপার অলংকারের মূল্য কার্যকর হবে।

হলমার্কিং কেন এবং কিভাবে : মূল্যবান গয়নার ক্ষেত্রে ‘হলমার্ক’ শব্দটির সঙ্গে সবাই পরিচিত। তবে অনেকের এ বিষয়ে ধারণা নেই। গয়নাতে সোনা, রুপা বা প্ল্যাটিনামের শুদ্ধতার মানদণ্ড এই হলমার্ক চিহ্ন। রঞ্জিত ঘোষ জানান, দেশে গয়নার শুদ্ধতা পরীক্ষা করে হলমার্ক অনুমোদন করে বাংলা গোল্ড ও ঢাকা গোল্ড নামের দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। রাজধানীর তাঁতীবাজারে তাঁদের ল্যাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অবশ্য সরকারি কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ল্যাবগুলোতে স্থাপিত আন্তর্জাতিক মানের মেশিনের ভেতর গয়না বা সোনা রাখলে সেগুলো স্ক্রিনিং করে তাতে কত শতাংশ সোনা এবং কত শতাংশ খাদ রয়েছে তার হিসাব দেয়। সেই সঙ্গে একটি মান প্রতিবেদন দেয়। তার ভিত্তিতে গয়নার ক্যারেট নির্ধারণ করে মেশিনেই খুব ছোট করে লেখা আইডি নম্বরসহ যেমন ২২কে৯১৬, ১৮কে৭৫০, ২১কে৫৮৫ হলমার্ক করা হয়। এর অর্থ এই গয়না ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং খাঁটি বলে প্রমাণিত হয়েছে।

হলমার্কের সুবিধা হলো, প্রথমে তৈরি করা কারিগর থেকে বিক্রেতারা সুনির্দিষ্ট মানের গয়না বুঝে পাবেন। সে অনুসারে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। ক্রেতার মূল্য দিয়ে ঠকতে হবে না। বিক্রেতারাও গুণমান এবং মূল্য বজায় রাখবেন। এ ছাড়া হলমার্ক সার্টিফিকেট থাকলে এক দোকানের গয়না সহজেই অন্য দোকানে বিক্রি করা যাবে। মানের তারতম্য হলে ভোক্তারা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন।

সোনার ক্ষেত্রে ২২ ক্যারেট মানে ৯১.৭ শতাংশ সোনা বাকিটা খাদ, ২১ ক্যারেট মানে ৮৮ শতাংশ সোনা বাকিটা খাদ ও ১৮ ক্যারেট মানে ৭৫ শতাংশ সোনা বাকিটা খাদ। কিন্তু রুপার ক্ষেত্রে কিছুটা কম হবে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা