kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সন্দেহজনক লেনদেনে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক ব্যাংক

বাণিজ্য ডেস্ক   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সন্দেহজনক লেনদেনে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক ব্যাংক

বিশ্বজুড়ে বৈধ-অবৈধ পথে বাড়ছে অর্থপাচার। খোদ ব্যাংকিং চ্যানেলেই প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের অর্থপাচারের ঘটনা ঘটছে। এসব লেনদেনে উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কম্পানি ও ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে বিশ্বের ব্যাংকগুলোর দাখিল করা গোপনীয় নথির উদ্ধৃতি দিয়ে গত রবিবার বাজফিড ও অন্যান্য গণমাধ্যম সন্দেহজনক অর্থপাচারের এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক ব্যাংক গত প্রায় দুই দশক ধরে বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক অর্থ লেনদেন করেছে। অথচ ওই সব অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফিন্যানশিয়াল ক্রাইম এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্কের (ফিনসেন) কাছে ব্যাংক ও অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাখিল করা ফাঁস হওয়া সাসপিসাস অ্যাক্টিভিটি রিপোর্টসের (সার্স) নথিতে দেখা যায়, সন্দেহজনক লেনদেনে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও আফগানিস্তানের নামও রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এবং বাংলাদেশে আসা আটটি সন্দেহজনক লেনদেনের খোঁজ পাওয়া গেছে। আট লাখ ৩২ হাজার ৯৩৭ ডলারের এই সন্দেহজনক লেনদেন হয় তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে।

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশ ভারতের স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়াসহ প্রায় সব বড় ব্যাংক, কম্পানি ও অনেক ব্যক্তি এই লেনদেনে জড়িত। দেশটির ব্যাংকগুলো সন্দেহজনক ৪০৬টি লেনদেনের মাধ্যমে মোট ৪৮ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ২২৬ কোটি ডলার গ্রহণ করে এবং দেশের বাইরে পাঠায় ৪০ কোটি ৬২ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬২ কোটি ডলার।

সন্দেহজনক লেনদেনে থাকা ভারতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, এইচডিএফসি ব্যাংক, ইন্দোসিন্দ ব্যাংক, এক্সিস ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক, ইয়েস ব্যাংক ইত্যাদি।

নেপালের ৯টি ব্যাংক ১০ কম্পানি ও কিছু ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে নথিতে। দেশটির ব্যাংকগুলো সাত কোটি ৪০ লাখ ছয় হাজার ডলার গ্রহণ করে এবং ১০ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেশের বাইরে পাঠায়। সব প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে দেশটির মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ডলার। এই লেনদেনে থাকা নেপালের ব্যাংকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রাইম কমার্শিয়াল ব্যাংক, ব্যাংক অব কাঠমাণ্ডু, নেপাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, এভারেস্ট ব্যাংক, মেগা ব্যাংক ইত্যাদি।

২০১৩ সালে অফশোর কেলেঙ্কারি, ২০১৫-তে সুইস ব্যাংক ঘটনা, ২০১৬-তে পানামা ব্যাংক কেলেঙ্কারি, ২০১৭ সালে প্যারাডাইস পেপারকাণ্ডের পর এবার প্রকাশ্যে এলো ‘ফিনসেন নথি’। এ ঘটনাকে অন্য সব কেলেঙ্কারি থেকে আলাদা মনে করা হয়, কারণ এটি এক বা দুই কম্পানির তথ্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক ব্যাংকের লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। এতে স্পষ্ট বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক কম্পানি ও ব্যক্তি সন্দেহজনক লেনদেনে জড়িত। ফলে প্রশ্ন উঠেছে ব্যাংক এসব লেনদেন সম্পর্কে অবগত থাকলেও কেন এগুলো যাচাই করেনি?

এ ধরনের (সার্স) দুই হাজার ১০০টিরও বেশি নথি বাজফিড নিউজের হাতে আসে এবং তারা সেগুলো ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেশন জার্নালিস্ট (আইসিআইজে) ও অন্যান্য গণমাধ্যম সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করেছে। আইসিআইজে জানায়, সব মিলিয়ে ওই নথিগুলোতে ১৯৯৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দুই ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ লেনদেনের তথ্য আছে, এই তহবিলগুলোকে সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করেছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ইন্টারন্যাল কমপ্লায়েন্স ডিপার্টমেন্ট।

এই নথিগুলো ফিনসেনের কাছে দাখিল করা প্রতিবেদনগুলোর একটি ক্ষুদ্রাংশ বলে জানিয়েছে আইসিআইজে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই নথিগুলোতে সবচেয়ে বেশি যে পাঁচটি বহুজাতিক ব্যাংকের নাম এসেছে সেগুলো হলো, এইচএসবিসি হোল্ডিংস পিএলসি, জেপিমর্গান চেস অ্যান্ড কম্পানি, ডয়েচে ব্যাংক এজি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড এবং ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক মেলন করপোরেশন।

অর্থপাচার ও অন্যান্য অপরাধ বন্ধে যে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা তাতে সহায়তার অংশ হিসেবেই সার্স গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে আসছে। সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা