kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

১৭৩০৮ প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনার ঋণ দিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৭৩০৮ প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনার ঋণ দিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে পড়েছে। এ সংকট মোকাবেলায় সরকার থেকে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার বেশি বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্যাকেজের আওতায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণে সামনের সারিতে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক। এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৩০৮ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে ব্যাংকটি। আগস্ট শেষে এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মঞ্জুরীকৃত ৮৬২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের কাজ প্রক্রিয়াধীন। অগ্রণী ব্যাংকের এক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, ‘করোনার কারণে দেশের সার্বিক অর্থনীতি অনেকটা সংকটে পড়েছে। এটা শুধু আমাদের দেশে নয়, বহির্বিশ্বেও একই অবস্থা। সংকট উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতি অচিরেই ঘুরে দাঁড়াবে। এ জন্য লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে অগ্রণী ব্যাংক। স্বীকৃতিস্বরূপ এরই মধ্যে ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সন্তুষ্টিপত্র পেয়েছে।’

জানা যায়, বড় শিল্প ও সেবা খাত, রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের বেতন ভাতা, সিএমএসএমই, কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনা, শস্য ও ফসল চাষ, ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ঋণ সহায়তা এবং কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক টু ব্যাক এলসিতে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়। এসব খাতে অগ্রণী ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ব্যাংকটি শস্য ও ফসল খাতে ১৪ হাজার ৭৬১ জন কৃষককে ৬১ কোটি ৩১ লাখ টাকা দিয়েছে। এ খাতে ব্যাংকটির বরাদ্দ রয়েছে ৪৪০ কোটি টাকা। কৃষি খাতের বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বরাদ্দ ১২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে দুই হাজার ১০৬ জন কৃষককে ১৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের বেতন ভাতায় ব্যাংকটি ১৩৫ কোটি পাঁচ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এই খাতে ১০৬টি প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ ঋণ বিতরণ করেছে। চলতি মূলধনের বিপরীতে শিল্প খাতে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। এ ছাড়া মঞ্জুরীকৃত ২৫ প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ৪৮৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা বিতরণের জন্য প্রক্রিয়াধীন। সিএমএসএমই খাতে ৪৮ প্রতিষ্ঠানকে ২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। এ ছাড়া ২২৩ প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রস্তাব মঞ্জুরির নিমিত্তে ৩২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিতরণের জন্য প্রক্রিয়াধীন।

ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ঋণ সহায়তা প্রকল্পে পাঁচটি আবেদনের বিপরীতে ৪৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিতরণের জন্য প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক টু ব্যাক এলসিতে প্রণোদনায় ২৮৩ এলসির বিপরীতে ৬৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা বিতরণ করেছে ব্যাংকটি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা