kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

সামাজিক সুরক্ষায় ৬৫.৫% সুবিধাভোগী দরিদ্র নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সামাজিক সুরক্ষায় ৬৫.৫% সুবিধাভোগী দরিদ্র নয়

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রায় ৬৫.৫ শতাংশ সুবিধাভোগী দরিদ্র নয় এবং ৩৪.৫ শতাংশ সুবিধাভোগী দরিদ্র। গতকাল বুধবার ‘উত্তর-পশ্চিম জেলাগুলোয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নের কার্যকারিতা’ বিষয়ে এক ভার্চুয়াল সভায় এ তথ্য তুলে ধরে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। অক্সফাম ইন বাংলাদেশ এবং সিপিডি যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।

গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেখানে দরিদ্ররা কম সুবিধা পাচ্ছেন। বিপরীতে যাঁরা দরিদ্র না তাঁরা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। বয়স্ক ভাতা, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের উপবৃত্তি এবং মাতৃত্বকালীন ভাতা এই পাঁচ খাতে যাঁরা দরিদ্র না তাঁরা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। এসব কর্মসূচির আওতায় যাঁদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে ৩৪.৫০ শতাংশ দরিদ্র। বাকি ৬৫.৫০ শতাংশই দরিদ্র না।

দারিদ্র্যপীড়িত চারটি জেলা কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীর প্রায় দেড় হাজার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

সিপিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাঁদের বয়স্ক ভাতা দেওয়া হচ্ছে তাঁদের ৩২ দশমিক ২০ শতাংশ দরিদ্র। বিপরীতে সুবিধা পাওয়াদের ৬৭ দশমিক ৮০ শতাংশ দরিদ্র না। একইভাবে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে উপবৃত্তি পাওয়াদের ৭২ শতাংশ দরিদ্র না। আর প্রাথমিক স্কুল পর্যায়ে উপবৃত্তি পাওয়াদের ৬৩.৮০ শতাংশ দরিদ্র নয়।

সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৪৩.৯ শতাংশ দরিদ্র মানুষ গাইবান্ধায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা ভোগ করছেন, কুড়িগ্রামে ৩০.৪ শতাংশ, নীলফামারী এবং রংপুরে ২১.৬ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা ভোগ করছেন।

বিপরীতে অতিদরিদ্র কর্মসূচির জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি সবচেয়ে ভালো লক্ষ্যবস্তু ছিল, অন্যদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি কার্যক্রমটি সবচেয়ে খারাপ ছিল। এর মধ্যে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পাওয়াদের ৪৯.৬০ শতাংশ দরিদ্র এবং দরিদ্র নয় ৫০.৪০ শতাংশ। আর মাতৃত্বকালীন ভাতা পাচ্ছেন যাঁরা তাঁদের ৪১.৫০ শতাংশ দরিদ্র এবং ৫৮.৫০ শতাংশ দরিদ্র না। সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পারভীন আকতার, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন প্রমুখ। আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা