kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

সরকারি শেয়ার অফলোডে এবার করোনা ‘অজুহাত’

সজীব হোম রায়   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি শেয়ার অফলোডে এবার করোনা ‘অজুহাত’

সরকারি শেয়ার অফলোডে এবার নতুন বাহানা পেয়েছে কম্পানিগুলো। আর তা হলো ‘করোনাভাইরাস’। বেশ কয়েকটি কম্পানি অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, করোনার কারণে তারা শেয়ার অফলোডের কার্যক্রম হাতে নিতে পারেনি। কোনো কোনো ব্যাংকের পর্ষদ সভায় এ বিষয়ে আলোচনাই হয়নি। সরকারি ব্যাংকের শেয়ার অফলোডের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আইসিবির পাঠানো প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

এ ব্যাপারে সরকারি কম্পানির শেয়ার অফলোডের তদারকি কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি শেয়ার অফলোডের কাজ চলছে। আমরা সামনে আবারও বৈঠকে বসব। তখন এগুলোকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।’

সূত্র মতে, ২০০৯ সালে ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত কম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয় সরকার। পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালের ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এক আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় ২১টি কম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে শেয়ার ছাড়তে বলা হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক দফায় শেয়ার ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দু-একটি কম্পানি ছাড়া কোনোটিই সাড়া দেয়নি।

গত ফেব্রুয়ারিতে পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে সরকারি চার ব্যাংকের শেয়ার পুঁজিবাজারে অফলোডের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া আরো সাতটি লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়ে আসার ঘোষণা দেন তিনি। এগুলোর শেয়ার অফলোড তদারকির জন্য একটি তদারকি কমিটিও গঠন করা হয়। সাত সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে অর্থ বিভাগের ট্রেজারি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে। কিন্তু এসব উদ্যোগের কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি। তদারকি কমিটিও অনেকটা নিষ্ক্রিয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য মতে, সরকারের পরিকল্পনায় সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকের শেয়ার ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে অফলোড হবে। রূপালী ব্যাংক ২৫ শতাংশ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ২৫ শতাংশ, জনতা ব্যাংক ২৫ শতাংশ এবং অগ্রণী ব্যাংক ১০-২৫ শতাংশ শেয়ার অফলোড করবে। আর সোনালী ব্যাংক যেহেতু ট্রেজারি কাজ করে, তাই তাদের শেয়ার পরে ছাড়া হবে।

কিন্তু গত ছয় মাসে শুধু রূপালী ব্যাংকের ১৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অ্যাসেট রিভ্যালুয়েশনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। বাকি তিন ব্যাংকের মধ্যে বিডিবিএলের শেয়ার অফলোডের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত পর্ষদকে অবহিত করার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। ব্যাংকের অ্যাসেট রিভ্যালুয়েশন ও শেয়ার ডিমেটকরণের বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনতা ব্যাংকের শেয়ার অফলোডের বিষয়ে পর্ষদে এখন পর্যন্ত আলোচনাই হয়নি। করোনা পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় শুধু জরুরি বিষয়ে আলোচনা হয়। আর অগ্রণী ব্যাংকের শেয়ার অফলোডের বিষয়ে পর্ষদ সভায় স্মারক উপস্থাপন করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনোটিরই বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই।

অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী লাভজনক সাত কম্পানি হলো তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল), পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি, ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি), আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কম্পানি, বি-আর পাওয়ারজেন লিমিটেড (বিআরপিএল) এবং গ্যাস ট্রান্সমিশন কম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।

মন্তব্য