kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

প্রকল্পে অস্বাভাবিক দাম ধরলে শাস্তির হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকল্পে অস্বাভাবিক দাম ধরলে শাস্তির হুঁশিয়ারি

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান

রূপপুরের বালিশকাণ্ড, কভিড-১৯ মোকাবেলায় গগলস, পিপিইর অস্বাভাবিক দাম ধরার ফলে বেশ কয়েকবার বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছিল সরকারকে। সামনের দিনগুলোতে আর যাতে এমন বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে না হয় সে জন্য কঠোর হচ্ছে সরকার। বাজারদর যাচাই-বাছাই না করে উন্নয়ন প্রকল্পে কেউ যদি পণ্য ও উপকরণের দাম বেশি ধরে তাহলে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিদ্যমান যেসব আইন-কানুন আছে তার ওপর ভিত্তি করে শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সচিবদের ডেকে এই হুঁশিয়ারি দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, ‘বাজারদর যাচাই করে তবে পণ্যের দাম নির্ধারণ করতে হবে।’ সভায় আরো জানানো হয়েছে, শুধু কারিগরি ছাড়া এখন থেকে সরকারি কর্মকর্তারা শিক্ষা সফরের নামে বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না। গাড়ি কেনাও বন্ধ। ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে যেসব প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে আসবে, সেসব প্রকল্প দেখার ক্ষেত্রে আরো শক্ত হওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও সংস্থা বিভিন্ন উপকরণ ও পণ্যের দাম ধরার ক্ষেত্রে অবশ্যই যাতে বাজারমূল্য যাচাই করে নির্ধারণ করে, সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবদের নিয়ে বৈঠকে বসেন পরিকল্পনামন্ত্রী। সেখানেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, অর্থসচিব, পানিসম্পদসচিব, পরিকল্পনা বিভাগের সচিবসহ প্রায় সব মন্ত্রণালয়ের সচিব উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত কোথায় কোথায় অসংগতি রয়েছে তা নিয়ে গতকালের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে একাধিক সচিব জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়, বেশির ভাগই কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়াই নেওয়া হয়। সমীক্ষা ছাড়া প্রকল্প নেওয়ার কারণে পদে পদে জটিলতা তৈরি হয়। দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অনেক সময় নকশা প্রণয়ন না করে প্রকল্পটি অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হয়। উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রকল্পের ব্যয় ৫০ কোটি টাকার মধ্যে রাখা হয়, যাতে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠাতে না হয়। একনেক সভার সভাপতি প্রধানমন্ত্রী। ৫০ কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্প হলে সেই প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী নিজ ক্ষমতাবলে অনুমোদন করতে পারেন। উপস্থিত একাধিক সচিব জানান, দেশে বস্তুনিষ্ঠতার চেয়ে তদবিরে প্রকল্প নেওয়া হয় বেশি। বাজারদর যাচাই না করেই প্রকল্পে পণ্য ও সেবার দাম নির্ধারণ করা হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পণ্যের উচ্চ দাম আর মেনে নেওয়া যায় না। জনগণের টাকা স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় করতে হবে। যাতে কোনোভাবেই নয়ছয় না হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পর্যায়েই ব্যাপক মনিটরিং জোরদার করতে হবে। বিধি-বিধান মেনেই তৈরি করতে হবে উন্নয়ন প্রকল্প।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা