kalerkantho

শুক্রবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৭ সফর ১৪৪২

উদ্যোক্তার গল্প

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সকাল সাড়ে ১০টায় নেন বেজস

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৩ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সকাল সাড়ে ১০টায় নেন বেজস

জেফ বেজসের নিট সম্পদের পরিমাণ ১৮৮ বিলিয়ন ডলার

সিলিকন ভ্যালির জনপ্রিয় ফ্যাশন ডিজাইনার ব্রুনেলো কুটফিনেলি সম্প্রতি তাঁর সাফল্যের গল্প বলতে গিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ধনী জেফ বেজসের একটি উপদেশের কথা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘গত গ্রীষ্মে প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন বড় ব্যক্তি ইতালিতে আমার ফ্যাশন হাউস ঘুরে যান। তাঁরা এখানে খেয়েছেন, প্রকৃতির মাঝে হেঁটেছেন এবং এ বিশ্বকে কিভাবে আরো ভালো করা যায় তা নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আমাজনের সিইও জেফ বেজস।’

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে ব্রুনেলো বলেন, “বেজস আমাকে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি উপদেশ দিয়েছিলেন। যা আমি খুব পছন্দ করেছি। তিনি আমাকে বলেন, ‘সাধারণত আমি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে নিয়ে থাকি। তার আগের দিন বিষয়টি আমি আলোচনা করি, এ ভাবনার মধ্যেই রাতে ঘুমাই এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।’”

ব্রুনেলো আরো বলেন, ‘বেজসের পরামর্শটি আমার হৃদয়ে গেঁথে গেছে। ফলে করোনার এই সংকটে আমি তাঁর উপদেশমতো সিদ্ধান্ত নিই। আমি বেশ কিছু স্টোর বন্ধ করে দিই এবং ৩৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য অতিরিক্ত থেকে যায়। সেগুলো আমি বেশ কিছু সংগঠনকে দিয়ে দিই। যারা বিশ্বজুড়ে দরিদ্র মানুষকে এসব পোশাক বিলিয়ে দেয়।’

অন্য এক সাক্ষাৎকারে জেফ বেজসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি একটি ব্যাংকে চাকরি করছিলেন। তখন কি ভেবেছিলেন আপনি বড় একটি কম্পানি গড়ে তুলবেন এবং ঝুঁকি নেবেন? উত্তরে বেজস বলেন, ‘উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন সব সময় আমি দেখেছি, এমনকি যখন ছোট ছিলাম তখনো এমন আইডিয়া লালন করেছি। আমি সেই মানুষদের একজন, যে কোনো একটা কিছু দেখলে ভাবে এটিকে কিভাবে আরো ভালো করা যায়। ধরুন আমি একটি রেস্টুরেন্ট দেখলাম, এরপর ভাবতে থাকলাম এটিকে কিভাবে আরো ভালো করা যায়। ফলে আমার মাথায় সব সময় আইডিয়া ঘুরপাক খেত।’

বেজস আরো বলেন, ‘মানুষের সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে আমরা যেকোনো জিনিস প্রতিনিয়ত উন্নত করতে থাকি। এভাবেই উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবকরা তাঁদের চিন্তা এবং উত্সুক থেকে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন এবং একটা কিছু করে তাঁরা তৃপ্ত হন না। কারণ প্রতিনিয়ত এটিকে এগিয়ে নিতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার দক্ষতা প্রথমত গ্রাহকদের ঘিরে কাজে লাগাতে হবে। প্রতিযোগীদের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া যাবে না। অথচ অনেক প্রতিষ্ঠানই গ্রাহকের কথা না ভেবে তাদের প্রতিযোগীর প্রতি বেশি মনোযোগ দিয়ে থাকে। ফলে তারা পথপ্রদর্শক হতে পারে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের শিয়াটলে একটি গাড়ির গ্যারেজে ১৯৯৪ সালে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজন প্রতিষ্ঠা করেন জেফ বেজস। সেটি এখন রাজস্বের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খুচরা কম্পানি। ব্যবসা বিস্তৃত হয়েছে অডিও, ভিডিও, সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিকস থেকে বিচিত্র সব পণ্যে। বাজার ছড়িয়েছে পুরো বিশ্বে। এ ছাড়া বেজস গড়ে তোলেন মহাকাশবিষয়ক কম্পানি অ্যারোস্পেস।

বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ ধনী জেফ বেজসের নিট সম্পদের পরিমাণ ১৮৮ বিলিয়ন ডলার। কমপারিসানের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যে হারে সম্পদ বাড়ছে তাতে করে আগামী ২০২৬ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হিসেবে নাম লেখাতে পারেন এই উদ্যোক্তা। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার, ফোর্বস ম্যাগাজিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা