kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৬ সফর ১৪৪২

উদ্ভাবন ও সহযোগিতায় মিলবে করোনা মুক্তি

বাণিজ্য ডেস্ক   

১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উদ্ভাবন ও সহযোগিতায় মিলবে করোনা মুক্তি

কভিড-১৯ টিকা উদ্ভাবনে শুরু থেকেই অর্থায়ন করে যাচ্ছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। দু-এক বছরের মধ্যেই করোনা থেকে মুক্তি সম্ভব, এমন আশাবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ জন্য উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক সহযোগিতায় গুরুত্ব দিতে হবে। টিকা যেন বিশ্বের সব প্রান্তের ধনী-দরিদ্র সবাই পায় এ জন্য সস্তা ও সহজলভ্য করতে হবে।’ করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও টিকা উৎপাদনে ৫০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী বিল গেটস। এসব অর্থায়ন করছে তাঁর গড়া প্রতিষ্ঠান বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।

সম্প্রতি ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে করোনা উত্তরণে দরিদ্র দেশগুলোর প্রতি বেশি নজর দেওয়া উচিত জানিয়ে বিল গেটস বলেন, ‘ধনী দেশগুলো করোনায় যে পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে একইহারে সংক্রমণে দরিদ্র দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এ মহামারি থেকে শুধু ধনীরা নয়, দরিদ্ররাও যেন মুক্তি পায় সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’ তিনি জানান, এই লক্ষ্যে টিকা উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি এটি যেন একেবারে কম দামে দেওয়া যায় সে লক্ষ্যে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউটকে ১৫ কোটি ডলার দেওয়া হচ্ছে। এই অর্থে ১০ কোটি ডোজ টিকা তৈরি করা হবে। প্রতি ডোজ টিকার দাম ধরা হতে পারে মাত্র তিন ডলার।

বিল গেটস বিশ্বাস করেন, একটি টিকা শেষ পর্যন্ত আসবে। তবে অনেক টিকাই উদ্ভাবন প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা হয়তো শুধু সম্পদশালী দেশগুলোর কাজেই আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও অর্থনীতিবিষয়ক সাময়িকী অয়ারডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘টিকা উদ্ভাবন প্রচেষ্টায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে কম্পানিগুলো। সে কারণে আমরা আশা করতে পারি ধনী বিশ্বে ২০২১ সালের শেষ নাগাদ করোনার ইতি ঘটবে, বাকি বিশ্বে ২০২২ সালের শেষ নাগাদ।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিল গেটস বলেন, ‘টিকা উদ্ভাবনে চীন ও রাশিয়ায় পূর্ণ উদ্যমে কাজ চলছে। আমি বলতে পারি, বিশ্বের কোথাও না কোথাও কিছু এমন টিকা রোগীদের ওপর প্রয়োগ করা হবে, যা পুরোপুরি পর্যালোচনা ছাড়াই বাজারে চলে আসবে। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে আমাদের তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে।’

সাক্ষাৎকারে করোনা প্রতিরোধে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে বিল গেটস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা দেখে আমি বিস্মিত। রোগতত্ত্বে বিশ্বের সবচেয়ে জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা কাজ করেন সিডিসিতে (যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ সংস্থা)। আমি তাঁদের কাছে আরো ভালো কিছু আশা করেছিলাম। হোয়াইট হাউস কিংবা অ্যান্থনি ফাউসি (যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও করোনা রোধে হোয়াইট হাউসের টাস্কফোর্সের অন্যতম সদস্য) নয়, আপনি এই মহামারিতে সিডিসিকে সম্মুখভাগে প্রত্যাশা করবেন। কিন্তু তারা তা ছিল না। বরং তারা শুরু থেকেই মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।’

বিল গেটস সতর্ক করে বলেন, ‘এই মহামারি থেকে আমাদের শিখতে হবে কিভাবে আমরা পরবর্তী সংকট মোকাবেলা করব। কভিড-১৯ ভয়াবহ কিন্তু এর চেয়ে আরো ভয়াবহ হতে পারে জলবায়ু পরিবর্তন।’ তিনি স্বীকার করেন, এই মুহূর্তে করোনাভাইরাসের বাইরে অন্য কিছুতে গুরুত্ব দেওয়া সহজ বিষয় নয়। তার পরও আসন্ন একটি জলবায়ু বিপর্যয় এড়াতে এদিকেও প্রচেষ্টা বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। গেটস বলেন, ‘করোনা মহামারিতে আমাদের যে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও প্রাণহানি হচ্ছে তা প্রতিনিয়ত হবে যদি আমরা বিশ্ব থেকে কার্বন গ্যাস নির্গমন বন্ধ করতে না পারি। আগামী ২০৬০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তন কভিড-১৯-এর মতোই প্রাণঘাতী হতে পারে এবং ২১০০ সাল নাগাদ এটি আরো পাঁচ গুণ ভয়াবহ হবে।’

গেটস বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে কার্বন গ্যাস নির্গমন বন্ধে আমরা যেমন উদ্ভাবনে যাচ্ছি এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা ও সমন্বয় করছি। তেমনিভাবে কভিড-১৯ পরীক্ষা, চিকিৎসা ও টিকা উৎপাদনে আমাদের উদ্ভাবন ও সহযোগিতা প্রদর্শন করতে হবে। সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই করোনা থেকে আমাদের মুক্তি মিলবে।’

নিজের করোনা হলে কী চিকিৎসা নেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বিল গেটস বলেন, ‘আমি রেমডেসিভির ওষুধ গ্রহণ করব। যদিও দুঃখজনভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এই ওষুধের পরীক্ষা বা কার্যকারিতা এখনো খুব একটা প্রমাণ করা হয়নি।’ তিনি জানান, ডেক্সামেথাসোনের ওপরও কিছুটা নির্ভর করা যায়। সূত্র : ব্লুমবার্গ, সিএনইটি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা