kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিংয়ের নীতি জারিতে বাংলাদেশ পঞ্চম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিংয়ের নীতি জারিতে বাংলাদেশ পঞ্চম

চীন কিংবা ভারতের মতো দেশগুলো থেকে অর্থপাচার বেশি হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশই বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে নীতিমালা জারি করেছে। শুধু তা-ই নয়, বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধকল্পে পৃথক কোনো নীতিমালা জারির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে পঞ্চম ও এশিয়ায় তৃতীয়।

গত রবিবার বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক ভার্চুয়াল সভায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম।

গত বছরের ডিসেম্বরে বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধসংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে দেশের কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সভায় এ নীতিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিএফআইইউয়ের প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান।

সভায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, বিএফআইইউয়ের প্রধান কর্মকর্তা, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের এমডিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

বিএফআইইউয়ের প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, বিএফআইইউ, দুদক ও সিআইডির যৌথ উদ্যোগে প্রণীত দেশের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঝুঁকি নিরূপণ প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং ও বিদেশে অর্থপাচারকে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এমন প্রেক্ষাপটে বিএফআইইউ, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি গ্রুপ গঠন করে আলোচ্য নীতিমালাটি প্রণয়ন করে।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস-উল-ইসলাম বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলো বেশির ভাগ সরকারি এলসি নিয়ে কাজ করে এবং বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং ও অর্থপাচারের আশঙ্কা কম। তা সত্ত্বেও সরকারি ব্যাংকগুলো রেটিং কম পাচ্ছে বলে মত দেন তিনি।

রূপালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, যথাযথভাবে পাচার প্রতিরোধ করতে পারলে দেশের উন্নয়ন আরো বেগবান হবে।

বিএফআইইউর নীতিমালার প্রশংসা করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডি মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ওভার ইনভয়েসিং ও আন্ডার ইনভয়েসিং প্রতিরোধে ব্যাংকের নিজস্ব ডাটাবেইসের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কমন ডাটাবেইস গড়ে তোলা জরুরি।

সভায় সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত সিকিউরিটি বজায় রেখে ড্যাশবোর্ড কিংবা অন্য কোনো সেন্ট্রাল ডাটাবেইস প্রতিষ্ঠা করে পণ্যমূল্যের যথার্থতা নির্ণয়ে ব্যাংকারদের সহায়তা করা যায় কি না, তা বিএফআইইউ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা