kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

ওষুধশিল্পের পালে হাওয়া

রফিকুল ইসলাম   

১১ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওষুধশিল্পের পালে হাওয়া

বিশ্ববাজারে দেশের ওষুধশিল্পের অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। আর করোনা মহামারিতেও ওষুধশিল্পের পালে হাওয়া লেগেছে। বেড়েছে ওষুধ বিক্রি। এতে ওষুধশিল্পে উঁকি দিচ্ছে বিশাল সম্ভাবনা।

সূত্র জানায়, নিজের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে ওষুধ। ক্রমেই ওষুধ রপ্তানি বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও বাড়ছে দেশীয় ওষুধশিল্পের আধিপত্য। করোনা মহামারিতে অন্য সব খাত যখন ভুগছে, ঠিক তখনই চাঙ্গাভাব ধরে রেখেছে দেশের সম্ভাবনাময় ওষুধশিল্প। কাঁচামাল আমদানিতে কিছুটা প্রভাব পড়লেও অভ্যন্তরীণ বাজারে বেড়েছে ওষুধের চাহিদা। বিশেষ করে করোনাসংক্রান্ত ওষুধের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ঔষধশিল্প সমিতির তথ্য মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৬৯টিরও বেশি ছোট-বড় ওষুধ কারখানা রয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এসব অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বছরে ২৪ হাজার রকমের ১২ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকার ওষুধ ও ওষুধের কাঁচামাল উত্পাদন করে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মতে, জাতীয় অর্থনীতিতে ওষুধশিল্পের অবদান বাড়ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপিতে ওষুধ খাতের অবদান ১.৮৫ শতাংশ। বর্তমানে ২৫৭টি অনুমোদিত কম্পানির মধ্যে উত্পাদনে রয়েছে ১৫০টি কম্পানি।

২০১৯ সালে ইবিএল সিকিউটিরিজের ওষুধশিল্প খাত নিয়ে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওষুধশিল্পের বাজার ২০ হাজার ৫১১ কোটি টাকা। বিগত পাঁচ বছরে এই শিল্পের প্রবৃদ্ধি গড়ে ১৫.৬ শতাংশ। পরবর্তী পাঁচ বছরে গড়ে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা করা যাচ্ছে।

তথ্য মতে, ওষুধশিল্প দেশের ৯৮ শতাংশ চাহিদা মেটায়। বিগত চার দশক থেকে এই শিল্পে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। ওষুধের বৈশ্বিক বাজারের হিসাবে দেখা যায়, ২০১৮ সালের হিসাবে বিশ্বব্যাপী ওষুধের বাজার এক হাজার ২০৫ বিলিয়ন ডলার, যার ৪.০৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। ২০১৮ সালে এই বাজার দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৪৫ বিলিয়ন ডলার। পাঁচ বছরে গড়ে ৩ থেকে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ২০২৩ সালে এই বাজার দাঁড়াবে এক হাজার ৫০৫ বিলিয়ন থেকে এক হাজার ৫৩৫ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বে ওষুধে ব্যয় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৩ সালে এটা ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

ঔষধশিল্প সমিতির তথ্যানুযায়ী, বিগত দুই বছরে এক হাজার ২০০ প্রকারের ওষুধ রপ্তানির অনুমোদন নিয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশে তৈরি ওষুধ বিশ্বের ১৪৭টি দেশে রপ্তানি হয়। রপ্তানিতে শীর্ষ সাত দেশ হচ্ছে মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, কেনিয়া ও স্লোভেনিয়া। মোট ওষুধ রপ্তানির ৬০.৩২ শতাংশ এই দেশগুলোতে। আর বাকি ৩৯.৬৮ শতাংশ অন্যান্য দেশে রপ্তানি করা হয়।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করেছে ১৩ কোটি ডলার, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। সদ্য শেষ হওয়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি হয়েছে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার। আগের বছরের চেয়ে ওষুধ রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৪৯ শতাংশ। যদিও ওই বছরে রপ্তানির টার্গেট ছিল ১৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের। করোনায় ওষুধের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলোর শেয়ারের দামের পালেও হাওয়া লেগেছে। বিগত মে ও জুন মাসের শেয়ার লেনদেন ওষুধ খাতে ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, মে মাসে ১৪৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে শুধু ওষুধ খাতে লেনদেন ৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। মোট লেনদেনের ৬৩.২৩ শতাংশ ওষুধ খাতের দখলে। আর জুনে মোট লেনদেন হয়েছে চার হাজার ৭১৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার। তবে ওষুধ খাতে লেনদেন হয়েছে তিন হাজার ৪৯২ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনে ৭৩.০৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি সাদেকুর রহমান বলেন, ‘করোনার কারণে ওষুধের উত্পাদন কম। তবে ওষুধের চাহিদা ভালোই। কিন্তু অনেক কম্পানি কাঁচামাল সংকটের কারণে পর্যাপ্ত ওষুধ উত্পাদন করতে পারছে না। কিছু কিছু কম্পানির উত্পাদন থমকে গেছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা