kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক অর্ধেকে নামিয়ে আনবে ভারত

বাণিজ্য ডেস্ক   

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক অর্ধেকে নামিয়ে আনবে ভারত

ভারতে ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন গ্রাহকরা

মন্দ ঋণের কবলে পড়ে কয়েক বছর ধরেই ধুঁকছে ভারতের রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো। সংকট কাটাতে তহবিল জোগান দেওয়ার পাশাপাশি একীভূতকরণে হাঁটলেও তাতে কাজ হয়নি।

এবার তাই অর্ধেকেরও বেশি ব্যাংক বেসরকারি খাতে দিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। মাত্র পাঁচটি ব্যাংক সরকারি মালিকানায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকারি ও ব্যাংকিং সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপে ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংক, ইউসিও ব্যাংক, ব্যাংক অব মহারাষ্ট্র এবং পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্দ ব্যাংকের বেশির ভাগ অংশীদারি বিক্রি করে দেওয়া হবে। এর ফলে বেসরকারি মালিকানায় নিয়ন্ত্রিত হবে এসব প্রতিষ্ঠান।

একজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা জানান, পরিকল্পনা হচ্ছে সরকারি মালিকানায় থাকবে চার থেকে পাঁচটি ব্যাংক। বর্তমানে ভারতের রাষ্ট্রীয় ব্যাংক আছে ১২টি। ওই কর্মকর্তা জানান, সরকারের নতুন বেসরকারীকরণ পরিকল্পনার আওতায় যে প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে তাতে এ বিষয়গুলো থাকছে। এটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ভারতের অর্থমন্ত্রী।

করোনা মহামারির আগ থেকেই ভারতের ব্যাংক খাতে অর্থনৈতিক সংকট ছিল, এখন তা আরো বাড়ল। তাই সম্পদ বিক্রি করে তহবিল উত্তোলনে সরকার বেসরকারীকরণ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

বেশ কিছু সরকারি কমিটি ও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া তাদের পরামর্শে বলেছে, রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংক পাঁচটির বেশি রাখার প্রয়োজন নেই। ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকার এরই মধ্যে বলেছে, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে আর মার্জার বা একীভূতকরণ হবে না। সে ক্ষেত্রে বাকি উপায়টি হচ্ছে অংশীদারি বিক্রি করে দেওয়া।’ গত বছর সরকার ১০টি রাষ্ট্রীয় ব্যাংককে একীভূতকরণের মাধ্যমে চারটিতে রূপান্তর করে। ‘যেসব ব্যাংক একীভূত করা হয়নি সেগুলোই এখন আমরা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে বিক্রি করে দেব।’ জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এ পরিকল্পনা এ বছরই বাস্তবায়িত হবে।’

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৯ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন রুপি (১২৪.৩৮ বিলিয়ন ডলার), যা মোট সম্পদের ৯.১ শতাংশ। ধারণা করা হচ্ছে করোনা মহামারির কারণে মন্দ ঋণের পরিমাণ বেড়ে দ্বিগুণ হবে। এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোকে চাঙ্গা করতে সরকারের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার তহবিল জোগান দেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। সূত্র : রয়টার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা