kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

ব্যবসা বদলেছেন অনেকেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যবসা বদলেছেন অনেকেই

কাপড়ের দোকানে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

টঙ্গী বাজারের আবুল ভাঙ্গারি মার্কেটে সাত বছর ধরে তৈরি পোশাক বিক্রি করেন মো. শাহীন মোল্লা। শিশু ও তরুণদের জামার জন্য নামডাক ছিল ‘শাহীন ফ্যাশন’ নামের তাঁর দোকানের। আয়-রোজগারও ভালোই ছিল। কিন্তু চলমান করোনাভাইরাসের কারণে তিনি তাঁর পেশা ছাড়তে বাধ্য হন। পরিবার বাঁচাতে ব্যবসার ধরন পাল্টে শাহীন দোকানে তোলেন হরেক রকমের মাস্ক, স্যানিটাইজার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী।

শুধু শাহীন মোল্লা নন, বেঁচে থাকার তাগিদে ব্যবসার ধরন পাল্টেছেন টঙ্গীর অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী শাহীন মোল্লা বলেন, ‘দোকানের আয় থেকেই বাড়িভাড়া, তিন সন্তানের লেখাপড়াসহ পাঁচ সদস্যের পরিবারের খরচ চলত। লকডাউনে দোকান বন্ধ থাকায় বাড়ি ও দোকানভাড়া এবং সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। গত রোজার ঈদের আগে দোকানপাট খুললেও ক্রেতার অভাবে বিক্রি ছিল খুবই মন্দা, যা বিক্রি হয়েছে তাতে সংসার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। দোকান ও বাড়িভাড়ার বকেয়া বাড়তে থাকে। অন্য ব্যবসায়ীদের দেখাদেখি ঈদের পর বিভিন্ন আইটেমের মাস্ক, স্যানিটাইজার তুললাম দোকানে। বিক্রি করছি পাইকারি। ব্যবসা আগের মতো জমজমাট না হলেও টিকে আছি।’

পাশের ভাওয়াল বিপণি প্লাজায় রয়েছে অর্ধশতাধিক দোকান। এসব দোকানে আগে মুদি ও নানা পাইকারি সামগ্রী বিক্রি হতো। দোকান ঘুরে দেখা গেছে, ওই সব দোকানেও এখন বিক্রি হচ্ছে করোনার স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী। সোহেল স্টোরের মালিক আবদুল জাব্বার বলেন, ‘এ মার্কেটের সব দোকান মালিকই পাইকারি ব্যবসা করেন। শিল্প এলাকা হওয়ার কারণে গাজীপুরে লাখ লাখ মানুষের বসবাস। তাই মাস্ক, স্যানিটাইজার, স্যানিটাইজার তৈরির উপকরণ, স্প্রে, বিভিন্ন ধরনের স্প্রের বোতল, এসবের চাহিদা প্রচুর। বিক্রিও ভালো।’

বিসমিল্লাহ স্টোরের মালিক সাখাওয়াত হোসেন আগে পলিথিন, ঠোঙা, বিভিন্ন আইটেমের স্কচটেপ, সুতা, প্লাস্টিকের রশি এসব বিক্রি করতেন। ব্যবসা বাঁচাতে পণ্যের ধরন পাল্টে এখন বিক্রি করেন মাস্ক। সার্জিক্যাল থেকে গেঞ্জির কাপড়ের ১৫ ধরনের মাস্ক আছে তাঁর দোকানে। কিছু মাস্ক আমদানি করা। ফোন করলেই দোকানে মাল পৌঁছে দেন ঢাকার ব্যবসায়ীরা। কম লাভে মাল বিক্রি করে তাঁরা কোনো রকমে টিকে আছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা