kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

মানিলন্ডারিং রোধে রেটিং ফার্মে নজরদারি

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে অবকাঠামোতে জোর দিচ্ছে সরকার
রেটিং ফার্মগুলোকে আরো জবাবদিহির আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে

সজীব হোম রায়   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানিলন্ডারিং রোধে রেটিং ফার্মে নজরদারি

বিদেশি কম্পানিগুলোর অ্যাসেট ভ্যালুয়েশন বা সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করে দেশের বিভিন্ন রেটিং ফার্ম; কিন্তু এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশি কম্পানি বা গ্রাহকের চাহিদা মতে পরিমাণের চেয়ে বেশি সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন দেখায়। এতে মানি লন্ডারিং হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তাই মানি লন্ডারিং ঠেকাতে অ্যাসেট ভ্যালুয়েশন ফার্মগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে রেটিং ফার্মগুলোকে আরো জবাবদিহির আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মো. রাজি হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানি লন্ডারিং হয় এমন কোনো কাজে কোনো প্রতিষ্ঠান সাহায্য করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই কোনো রেটিং কম্পানি এমন কাজ করলে এবং তা প্রমাণিত হলে তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।’

সূত্র মতে, বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগ টানতে নানা সুবিধা দিচ্ছে। সামনে আরো সুবিধা আসতে পারে; কিন্তু দেশের কিছু রেটিং ফার্ম সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দাখিল করছে। বিদেশি গ্রাহকের যোগসাজশেই এগুলো করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে ‘বিদেশি বিনিয়োগ সৃষ্টিতে সহায়ক পরিবেশ’ নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বৈঠকের কার্যবিবরণী মতে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব মু. শুকুর আলী এ বিষয়ে বলেন, কম্পানি আইন মোতাবেক রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কম্পানি (আরজেএসসি) থেকে অনুমতি নিয়ে অ্যাসেট ভ্যালুয়েশন কম্পানির অনুমোদন দেওয়া হয়; কিন্তু এসব কম্পানির ভ্যালুয়েশন বা সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। রেটিং ফার্মগুলোর পর্যাপ্ত জবাবদিহি নেই। সঠিক ভ্যালুয়েশন না করায় দেশের অর্থ মানি লন্ডারিং হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভ্যালুয়েশনের ক্ষেত্রে অনেক সময় ওভার ইনভয়েসিং বা আন্ডার ইনভয়েসিং হচ্ছে। এগুলো দেখা দরকার।

সূত্র মতে, বৈঠকের আলোচনার পর আরজেএসসিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিএফআইইউ রেটিং ফার্মগুলো নিয়ে কাজ করবে বলে জানা গেছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন দেশি-বিদেশি কম্পানির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করে থাকে রেটিং ফার্মগুলো। তাই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনতে অবকাঠামো খাতে জোর দিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি পুঁজিবাজার এবং ইক্যুইটি মার্কেটেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) একসঙ্গে কাজ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যাংকিং নিয়ম-নীতি সহজীকরণের উদ্যোগের একটি রূপরেখা তৈরি করবে। পাশাপাশি এ রূপরেখা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ২০৪০ সাল নাগাদ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৯.৯ শতাংশে উন্নীত করতে হলে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা