kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

২০১৮-১৯ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ৳ ১৭.৮৬ বিলিয়ন

বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াবে ১৮ বিলিয়ন ডলার

জিয়াদুল ইসলাম   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াবে ১৮ বিলিয়ন ডলার

কিরোনার আঘাতে আমদানি ও রপ্তানি দুই-ই কমেছে। তার পরও বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৮৬ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। তবে এ সময়ে চলতি হিসাবের ঘাটতি কিছুটা কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের হোঁচট খাওয়ার পরও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স চলতি হিসাবের ঘাটতি কমাতে সহায়তা করেছে। এদিকে চলতি অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে তথ্য দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি মুদ্রানীতিতে পুরো অর্থবছরের বাণিজ্য ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে এক হাজার ৮৩৯ কোটি ডলার।

সাধারণত বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপে পড়ে। আর চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত হলে বিদেশের সঙ্গে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে ঋণ নিতে হয়। তবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক অনুদান ও ঋণের ওপর ভর করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। গত ২৯ জুলাই শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৭১৮ কোটি ডলার।

গত মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়তে শুরু করে। এর পর থেকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশের আমদানি ও রপ্তানির গতি মন্থর হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে (এফওবিভিত্তিক, ইপিজেডসহ) মোট পাঁচ হাজার ৬৯ কোটি ১০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে বাংলাদেশ। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৮.৫৬ শতাংশ কম।

অন্যদিকে এ সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি থেকে (এফওবিভিত্তিক, ইপিজেডসহ) বাংলাদেশ আয় করেছে তিন হাজার ২৮৩ কোটি ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭.১০ শতাংশ কম। এ হিসাবেই পণ্য বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৮৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৫৮৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এই হিসাবে গত অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২০২ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ১২.৭৯ শতাংশ।

তথ্য পর্যালোচনায় আরো দেখা যায়, আমদানি কমায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের তিন মাস পর্যন্ত পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি আগের অর্থবছরের চেয়ে কম ছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ঘাটতি ছিল ৩৮৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ছিল তার থেকে কম ৩৭১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। তবে রপ্তানি আয়ে ধসের কারণে এর পর থেকেই বাণিজ্য ঘাটতি বাড়তে থাকে, এমনকি আমদানি ব্যয় কমার পরও বেড়েছে এই ঘাটতি।

যদিও এ সময়ে সেবা খাতে ঘাটতি কিছুটা কমেছে। গেল অর্থবছরে সেবা বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৯৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এই খাতের বাণিজ্যে মূলত বীমা, ভ্রমণ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে।

এ সময়ে রপ্তানি আয়ে ধস নামলেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে আশার আলো দেখা যায়। আর এই সূচকের ওপর ভর করেই ২০১৯-২০ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতি কিছুটা কমেছে।

গত অর্থবছরে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ৪৮৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ঘাটতি হয়, যা আগের অর্থবছরে ৫১০ কোটি ২০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরেও বাণিজ্য ঘাটতির মতো চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতি বাড়বে বলে সম্প্রতি ঘোষিত মুদ্রানীতিতে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এবার চলতি হিসাবে ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪৮৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

তবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এ সময়ে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৩৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা