kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

ভার্চুয়াল সেমিনারে বিএইচবিএফসির চেয়ারম্যান

বাজেট বাস্তবায়নে চার কৌশল গ্রহণের প্রস্তাব

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজেট বাস্তবায়নে চার কৌশল গ্রহণের প্রস্তাব

এবারের বাজেট মূলত দুটি ভিত্তিকে কেন্দ্র করে যথা—মধ্য মেয়াদি বাজেট কাঠামো এবং বিগত কয়েক মাসে করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে গৃহীত বিভিন্ন নীতি, কৌশল ও প্রণোদনাকে প্রাধান্য দিয়ে রচিত হয়েছে। বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. সেলিম উদ্দিন এফসিএ, এফসিএমএ এ কথা বলেছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগ আয়োজিত ‘ন্যাশনাল বাজেট ২০২০-২১’ বিষয়ে ভার্চুয়াল সেমিনারে মনোনীত আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করে তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় বাজেট ২০২০-২১ এমন সময় ঘোষিত হয়েছে, যখন বিশ্বের অধিকাংশ অর্থনীতিসহ আমাদের অর্থনীতির প্রায় সব খাত কভিড-১৯-এর কারণে অস্বাভাবিক, অনিশ্চিত, বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। 

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের (আইবিবিএল) নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম উদ্দিন আরো বলেন, জাতীয় বাজেট ২০২০-২১ পরিপূর্ণভাবে বিশ্লেষণ করলে কমপক্ষে ছয়টি প্রধান মৌলিক অঙ্গীকার স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। এগুলো হলো—১. প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ১,০৩,১১৭ কোটি টাকার বিশাল প্রণোদনার দ্রুত বাস্তবায়ন, ২. সরকারি ব্যয়ে কর্ম সৃজনকে প্রাধান্য দিয়ে গুণগত মানে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা, ৩. বিলাসী ব্যয় হ্রাস ও নিরুৎসাহ করা, ৪. স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা প্রবর্তন করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা, ৫. সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি এবং ৬. বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করে যথাযথ তারল্য বজায় রাখা।

করোনাকালীন দুর্যোগের জাতীয় বাজেট ২০২০-২১ সফলভাবে বাস্তবায়নে সমর্থ হলে কভিড-১৯-এ ক্ষতিগ্রস্তের জন্য কল্যাণকর কার্য সম্পাদন, দরিদ্র, স্বল্প আয়ের ও সাম্প্রতিক কর্মবিচ্যুত লোকগুলোকে পুনর্বাসন করা, সব ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনৈতিক খাত পুনর্নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা, অর্থনীতি চাঙ্গা হয় এমন পদক্ষেপ এবং বরাদ্দের দিকে মনোনিবেশসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে ধনাত্মক প্রভাব বিস্তার করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাজেটের সুফল, ভালো ও ধনাত্মক প্রভাব, কার্যকারিতা এবং সর্বোপরি সফলতা বাস্তবায়নের ওপর অবশ্যই নির্ভরশীল। এই পরিপ্রেক্ষিতে ড. সেলিম চারটি ধারণার কথা উল্লেখ করেন, যেটাকে তিনি নিজের ভাষায় পেস্ট (PEST) নামে অভিহিত করেন। যেমন—P মানে Properly অর্থাৎ বাজেট আইনকানুন, নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করতে হবে। E মানে Efficiency অর্থাৎ আউটপুট-ইনপুট অনুপাত সর্বাধিকসহ উৎপাদনশীলতার দিকে সবিশেষ নজর দেওয়া। S মানে Sincerely অর্থাৎ আন্তরিকতা, সততা, স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশের এবং ন্যায়-নীতির কথা বোঝানো হচ্ছে। সর্বশেষ T মানে Timely অর্থাৎ সময়ের কাজ সময়ে মানে সমকালীনতায় জোর দিয়ে বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া। কভিড-১৯ বিশ্ব অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যাবে তা এখনো অজানা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা