kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য কমাতে বিকল্প খুঁজছে ভারত

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চীনের সঙ্গে বাণিজ্য কমাতে বিকল্প খুঁজছে ভারত

ভারতে চীনা পণ্য বর্জনের ডাক সাড়া ফেলেছে সর্বস্তরের জনগণের ওপর

চীনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত উত্তেজনার প্রভাব জোরেশোরেই পড়েছে দুই দেশের বাণিজ্যে। ভারতজুড়ে চীনা পণ্য বর্জনের ডাক উঠেছে। এরই মধ্যে চীনের ৫৯টি অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন খাতে আসা চীনা কম্পানিগুলোর ৫০টি বিনিয়োগ প্রস্তাব পূর্নবিবেচনা করা হচ্ছে। ভারতের ফাইভজি থেকে চীনা কম্পানিগুলোকে দূরে রাখারও সিদ্ধান্ত হতে পারে। সর্বোপরি চলছে চীনের ওপর বাণিজ্যনির্ভরতা কমানোর হিসাব-নিকাশ।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দেশের তালিকা করা হচ্ছে, যাদের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানো হবে। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরঞ্জামসহ যেসব পণ্য ভারত উৎপাদন করতে পারে না, সেসব পণ্য আনা হবে এই দেশগুলো থেকে। এই তালিকা তৈরির কাজ করছে শিল্প ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগ—ডিপিআইআইটি। তালিকা তৈরি হলে ভারত এই দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করবে এবং ভারতের বাজারে তাদের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে।

২০২০ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৮.৫ বিলিয়ন ডলার। এই বিপুল অঙ্কের বাণিজ্য ঘাটতির বড় কারণ চীনের সস্তা পণ্য ব্যাপকভাবে ঢুকছে ভারতের বাজারে। তাই ভারত সরকারও মনে করছে, চীনের সস্তা পণ্যের ওপর ভারতের মানুষের যে নির্ভরতা রয়েছে তা রাতারাতি বদলে ফেলা যাবে না। সে কারণেই সুনির্দিষ্ট কিছু পণ্যের জন্য বিকল্প বাজার হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও তাইওয়ানকে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে দাম একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তবে অ্যাকুইটে রেটিংস অ্যান্ড রিসার্চের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত চেষ্টা করলে ২০২১-২২ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৮.৪ বিলিয়ন ডলার কমানো সম্ভব হবে, যা হবে চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির ১৭.৩ শতাংশ এবং ভারতের জিডিপির ০.৩ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং খাত অত্যন্ত শক্তিশালী। তাই শুধু এক-চতুর্থাংশ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে যদি ভারত পরিবর্তন আনে তাহলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। অতিরিক্ত বিনিয়োগ ছাড়াই ভারতের ম্যানুফ্যাকাচারিং খাত চীন থেকে আমদানির ২৫ শতাংশ নিজেরাই পূরণ করতে পারে।

অ্যাকুইটে রেটিংস অ্যান্ড রিসার্চের প্রধান বিশ্লেষণ কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, ‘২০২০ অর্থবছরে ভারত চীন থেকে আমদানি করেছে ৬৫.১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, রপ্তানি করেছে মাত্র ১৬.৬ বিলিয়ন ডলারের। এতে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৮.৫ বিলিয়ন ডলারে।’

সাফটা ও আসিয়ান কাজে লাগানো হবে : ভারতের সরকারি সূত্র বলছে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সাফটা ও আসিয়ানের মতো বাণিজ্য সংস্থাগুলোকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়টিও ভেবে দেখছে ভারত সরকার। তারা মনে করছে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) মতো বিষয়গুলো কাজে লাগিয়ে চীন ভারতের বাজারে প্রবেশ করছে, এমনকি এসব চুক্তির অপব্যবহার করে শুল্ক সুবিধাও নিচ্ছে। অন্যদিকে এশিয়া প্যাসিফিক অ্যাগ্রিমেন্টও (এপিএ) পর্যালোচনা করে দেখছে ভারত।

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে উদ্যোগ : ভারতীয় পত্রিকা ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বেইজিং যখন বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে দেশটিকে কাছে টানার চেষ্টা করছে তখন ভারতও  বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও ব্যাবসায়িক অংশীদারি বাড়াতে বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করছে। সমুদ্রবন্দর, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন, রেল ও মহাসড়কসহ ভারত বিভিন্ন ধরনের কানেক্টিভিটি উদ্যোগ সক্রিয় করছে, যাতে বাংলাদেশি পণ্য দেশটির ভূবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং অন্যান্য অঞ্চলে অব্যাহতভাবে ঢুকতে পারে।

ইইউ ও আমেরিকার সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির চেষ্টা : যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ব্রিটেনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির চেষ্টা করছে ভারত। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পিযূষ গোয়েল বলেন, ‘আমরা ইইউ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বা অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি করার ব্যাপারে প্রস্তুত আছি, এ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’ সূত্র : রয়টার্স, টাইমসনাও নিউজ, দ্য হিন্দু।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা