kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা বাড়ানোয় জোর

অনিয়মে আস্থা কমছে বিনিয়োগকারীদের

পিপলস লিজিংয়ের বিনিয়োগ নিয়ে ধোঁয়াশা

রফিকুল ইসলাম   

১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনিয়মে আস্থা কমছে বিনিয়োগকারীদের

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আস্থা ফেরাতে সুশাসন ও আইন পরিপালনে জোর দিলেও মূলধন নিয়ে লাপাত্তা ও আর্থিক অনিয়মে বিনিয়োগকারীর আস্থায় বড় ফাটল ধরেছে। মন্দা পুঁজিবাজারে লোকসানে হাবুডুবু খাওয়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অনেকে এখন মূলধন নিয়ে বাজার ছাড়ছেন। আবার কেউ ছাড়তে চাইলেও ফ্লোর প্রাইসের কারণে শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না। কম্পানির আর্থিক অনিয়ম ও মূলধন নিয়ে লাপাত্তার ঘাটনায় বিনিয়োগকারীর আস্থায় বারবার কুঠারাঘাত করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসেসে আর্থিক অনিয়মের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির আমানতকারীরা মূলধন পাচ্ছেন না, আবার যাঁরা কম্পানিটির শেয়ার কিনেছেন তাঁরাও পড়েছেন মহাবিপদে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কম্পানিটির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। দফায় দফায় এই মেয়াদ বাড়ছে। কবে শেয়ার লেনদেন হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই।

এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির অনিয়মের কোনো সমাধান না হলেও সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে ডিএসইর সদস্য প্রতিষ্ঠান ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ। গোপনে বিনিয়োগকারীর শেয়ার বিক্রি করে নিখোঁজ হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক শহিদ উল্লাহ। ক্রেস্টের সব অফিস এখন বন্ধ। কোটি কোটি টাকা মূলধন নিয়ে শঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা; যদিও স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা মূলধন ফেরত পাওয়ার বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেছে।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, জমানো টাকা বিনিয়োগ করে শঙ্কার মধ্যে শত শত বিনিয়োগকারী। বারবার অনিয়ম ঠেকাতে কড়া ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিনিয়োগকারীর আস্থায় চিড় ধরেছে। বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরা সুবিধা করতে পারছেন না, অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগকারীরাও আসছেন না। বাজার গতিশীল করতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং মূলধন সুরক্ষায় জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, একের পর এক অনিয়মে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছেন। অতীতেও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু জোরালো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জমানো অর্থ নিয়ে অনিয়মের কারণে বিনিয়োগকারীদের অনেকে বাজারবিমুখ হচ্ছেন। তাঁদের আস্থা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কঠোর হতে হবে। তাঁদের মূলধন সুরক্ষায় জোর দিতে হবে। নতুবা নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে আসবেন না।’

চলতি বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়লে পুঁজিবাজারে মূল্যপতন ঘটতে শুরু করে। ক্রমাগত বিক্রির চাপে সূচকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজার মূলধনও কমে। কোনো উপায় না দেখে সার্কিট ব্রেকারে কম্পানির ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ওই দামের চেয়ে কেউ কম দামে শেয়ার বিক্রি করতে চাইলেও পারবে না। এই সিদ্ধান্তে পুঁজিবাজারে শেয়ার লেনদেন কমে গেলেও দাম না কমায় কিছুটা স্বস্তি পান বিনিয়োগকারীরা।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়্যারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী-রুবাইয়াত উল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। তাঁদের মূলধন নিয়ে কেউ পার পাবে না। আইন-কানুন থেকে শুরু করে সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা