kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

ফিরে এলো উৎসে ভ্যাট কর্তন

মো. আলীমুজ্জামান   

১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফিরে এলো উৎসে ভ্যাট কর্তন

আইন তৈরি হয় সেটার প্রয়োগের জায়গা বিবেচনায় রেখে। আইন ও আইনের ভাষার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে। আইন হলো বোঝা ও বোঝানোর বিষয়। যিনি যত ভালো বুঝতে পারবেন তত ভালো প্রয়োগ করতে পারবেন। আইনের সুবিধা পেতে অবশ্যই সেটার আওতায় আসতে হবে। ভ্যাট আইন সেসব বৈশিষ্ট্যে তৈরি আর উৎসে কর্তন সেটার সামান্য অংশ হলেও ব্যবহারের ব্যাপ্তি অনেক বিশাল।

উৎসে ভ্যাট কর্তনের তালিকা বিগত অর্থবছর ছাড়া, আগের ভ্যাট আইনে ছিল। ভ্যাট আইন প্রচলিত দেশগুলোর মধ্যে স্পেন ও আফ্রিকার কিছু দেশ ছাড়া অন্য কোথাও উৎসে ভ্যাট কর্তনের বিধান নেই। এটি ভ্যাট আইনের মূল থিমের সঙ্গে মিল না থাকলেও ভ্যাট আদায়ের নিরাপদ বিধান। দেশে মোট আদায়ের ৪০-৪৫ শতাংশ ভ্যাট উৎসে আদায় থেকে আসে। চলতি অর্থবছরে ৪৩টি সেবার তালিকা ও পার্শ্বে বর্ণিত হারে উৎসে কর্তন এবং সেটি ট্রেজারি জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগে ১৫ শতাংশ হারে মূসক চালান ৬ দশমিক ৩ থাকলে উৎসে কর্তন করা যাবে না বলা থাকলে এবার কিছু সেবার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে থাকলে উৎসে কাটা হবে। বিষয়টা যুক্তিযুক্ত কারণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হোটেল-রেস্তোরাঁ, ডেকোরেটর এ প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাটসহ টাকা সংগ্রহ করলেও সেটা পরিশোধের নিশ্চয়তা থাকে না।

পণ্য সরবরাহের সময় ১৫ শতাংশ হারে মূসক-৬.৩ ইস্যু করলে উৎসে ভ্যাট কর্তন না করার বিধান আছে, যা ৭.৫ শতাংশ হারে তালিকায় থাকার পরও ব্যবসায়ীদের ১৫ শতাংশ হারে আসার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ভ্যাট ব্যবস্থাপনা উন্নত করার সদিচ্ছা থাকলেও আইন না বোঝায় ধরে রাখা যায়নি। মধ্যম আয়ের দেশে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সেটা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উৎসে ভ্যাট কর্তনের বিধিবিধান সংযোজন হয়েছে। ভ্যাট আইনে যে সেবাগুলোর উৎসে কর্তন হবে, সেটাকে গুরুত্ব দেওয়ায়, কর্তনকারীর খরচগুলো হিসাবভুক্তির নির্দেশনা না থাকায় ফিল্ড লেভেলের জটিলতা তৈরি হবে। অবশ্য আইন প্রণয়নে প্রায়োগিক ব্যাখ্যা থাকলে সে অনুসারে ব্যবহার হয়। ভ্যাট আইনের ব্যাবহারিক জটিলতা তৈরি হয় মাঠপর্যায়ে কম ভ্যাট প্রদান বা ব্যক্তিগত সুবিধা প্রাপ্তির আশা থেকে। আগের ভ্যাট আইনে মামলাগুলোর মধ্যে অর্ধেক উৎসে ভ্যাট কর্তনের জটিলতা থেকে। উৎসে মূসক কর্তনে অনেক সেবার ক্ষেত্রে ব্যাবহারিক জটিলতা ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

যে সেবা প্রদান করতে অন্য পণ্য বা সেবার সমন্বয়ের প্রয়োজন হয় না এবং সেগুলোর ওপর নির্ধারিত হারে উৎসে কর্তন করে হিসাবভুক্তিকরণে প্রদর্শিত খরচের সঙ্গে মিল থাকায় জটিলতা হবে না। যেমন কনসালট্যান্সি ফি, অ্যাকাউন্টিং ও অডিট ফার্মের ফি ইত্যাদি। যে সেবা প্রদান করতে অন্য পণ্য বা সেবার সমন্বয় প্রয়োজন, সেগুলোর উৎসে কর্তন ও হিসাবভুক্তিকরণে ঝামেলা তৈরি হবে। যেমন মানবসম্পদ সরবরাহকারীর ওপর ১৫ শতাংশ হারে উৎসে ভ্যাট কর্তনের বিধান আছে এবং তার কমিশনের ওপর উৎসে ভ্যাট কর্তন করে বিলের সব টাকা হিসাবভুক্ত করা হলে সেটার মিল থাকবে না। ১০ লাখ টাকা লেবার বিল খরচ প্রদর্শন করলে, ভ্যাট অফিসার সম্পূর্ণ খরচের ১৫ শতাংশ হারে ১.৩০ লাখ টাকা উৎসে ভ্যাট দাবি করবেন। প্রকৃতপক্ষে বিলের ১০ শতাংশ কমিশন ধরে তার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ১৩.০৩ হাজার টাকা উৎসে ভ্যাট কর্তন করা হয়েছে। সেটা বাদ দেওয়ার পর ১.১৭ লাখ টাকা অপরিশোধিত উৎসে কর্তনের দাবিনামা জারি করলে সেটা আইন অনুযায়ী করেছেন বলে ধরে নেওয়া হবে। মানবসম্পদ সরবরাহকারী মোট বিলের ১০ শতাংশ হারে এক লাখ টাকা কমিশনপ্রাপ্ত হয়ে ভ্যাট হিসাবে ১.৩০ লাখ টাকা বিলের সঙ্গে যোগ করেন তাহলে উৎসে কর্তনকারীর বাড়তি ১.১৭ লাখ টাকা ভ্যাট হিসাবে খরচ বৃদ্ধি হবে, যা প্রদর্শিত খরচ ১৩.৫০ শতাংশ হারে বেড়ে যাবে এবং ব্যাবসায়িক খরচ বৃদ্ধির অর্থ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়া।

লেখক : লিড কনসালট্যান্ট, দ্য রিয়েল কনসালটেশন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা