kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

বাসায় চুল কাটছে মানুষ

সেলুন ব্যবসায় ধস

সজীব আহমেদ   

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেলুন ব্যবসায় ধস

জোয়ারসাহারায় সেবা দিচ্ছেন এক নরসুন্দর। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনাভাইরাসের প্রভাবে ভালো নেই সেলুন ব্যবসায়ী-কর্মী বা নরসুন্দররা। রাজধানীর অধিকাংশ সেলুন এখন খোলা থাকলেও পাচ্ছেন না সেবাগ্রহীতা। সেলুনে কর্মী ও সেবাগ্রহীতার মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন। কারণ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্ষৌরকার্য করা সম্ভব নয়। তাই জীবন বাঁচাতে বাসায় থাকা মানুষ ‘চুল কাটা ও শেভ’ নিজেরা সেরে নিচ্ছেন, তাই বিপাকে পড়েছেন নরসুন্দররা। ফলে আয়-রোজগার না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে নিম্ন আয়ের এসব মানুষ। মিলছে না কোনো সাহায্যও। তাই কার্যত কর্মহীন হয়ে পড়েছেন রাজধানীর মহল্লা ও অলিগলির ৩০-৪০ হাজার সেলুন দোকান মালিক ও নরসুন্দররা। অধিকাংশ সেলুনেই মালিক ও কর্মচারীরা যৌথভাবে ক্ষৌরকার্য করে থাকেন। পরোক্ষভাবে এই পেশার ওপর নির্ভরশীল আরো অনেকে।

সেলুন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মালিক ও কর্মীরা জানান, অনেকের চুল-দাড়ি বড় হয়ে গেলেও তাঁরা কেউ সেলুনমুখো হচ্ছেন না। সামাজিক দূরত্ব মেনে তো এ কাজ করা সম্ভব না। এ অপ্রত্যাশিত সংকটকালে তাঁদের অন্য কোনো পেশায় যাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তাঁদের নিয়মিত যেসব গ্রাহক ছিল তাঁরাও এখন সেলুনে আসতে চাচ্ছেন না। আগের তুলনায় এখন ৫ শতাংশ কাজ পাচ্ছেন। ফলে অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাঁদের। এমতাবস্থায় তাঁরা কোনো সরকারি-বেসরকারি সাহায্যও পাচ্ছেন না।

রাজধানীর ভাটারা থানার জোয়ারসাহারা এলাকায় শিবলু এসি হেয়ার স্টাইল সেলুনের মালিক নূরে আলম আরো দুজন কর্মী মো. আশরাফ ও মো. আনুকে নিয়ে যৌথভাবে ক্ষৌরকার্য করে থাকেন। নূরে আলম বলেন, ‘করোনার আগে যা আয় হতো তা দিয়ে দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করে সংসার চালানোর পর কিছু সঞ্চয়ও করতে পারতাম। এখন নিজের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ডিসেম্বরে সেলুনের কিছু কাজ করার জন্য ব্যুরো বাংলাদেশ এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে কিস্তি দিতে হচ্ছে। এখন কাজ কমে যাওয়ায় দোকান ভাড়া, কিস্তির টাকা ও পরিবারের খরচ নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখন আগের তুলনায় ১০ শতাংশও মানুষ সেলুনে আসে না। সব মিলিয়ে আমরা সেলুন ব্যবসায়ী ও কর্মীরা খুব ক্ষতির মধ্যে রয়েছি। কোনো ধরনের সহায়তা আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি।’

টিপটপ সেলুনের কর্মী বিমল চন্দ্র বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের ভয়ে সেলুনে চুল ও শেভ করতে আসছে না লোকজন। প্রতিটি সেলুনের একই অবস্থা।’ এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন তাঁরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা