kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

দেশে রপ্তানিতে দ্রুত উন্নতি

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশে রপ্তানিতে দ্রুত উন্নতি

করোনাভাইরাসের ফলে পণ্য রপ্তানিতে যে ধকল নেমেছিল সেটি কাটিয়ে উঠছে বাংলাদেশ। করোনার কারণে গত এপ্রিল মাসে রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছিল; মে মাসে রপ্তানি বাড়লেও সর্বশেষ জুনে রপ্তানিতে বড় অগগ্রতি হয়েছে। শুধু এপ্রিলের তুলনায় জুনে রপ্তানি প্রায় চার গুণ বেড়েছে। অবশ্য রপ্তানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরো কিছু সময় লাগবে।

করোনাভাইরাসের চরম ঝুঁকির মধ্যে চ্যালেঞ্জ নিয়ে সরকার যে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; তার সুফল এরই মধ্যে পেতে শুরু করেছে দেশ। মে মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে রপ্তানি বাড়াই তার বড় প্রমাণ।  দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কেমন চলছে, এর বড় একটি ধারণা পাওয়া যায় চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য উঠানামার চিত্র দিয়ে। অর্থনীতির লাইপলাইন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানির ৮২ শতাংশ আসে; আর রপ্তানি পণ্যের ৯১ শতাংশই যায় এই বন্দর দিয়ে। সুতরাং এপ্রিল মাসে এই বন্দরে পণ্য উঠানামায় ধস নামায় যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছিল; তেমনি জুন মাসে করোনাকালীন আতঙ্কের মধ্যে রপ্তানির সুবাতাস দেখে আশান্বিত হয়ে উঠছেন রপ্তানিকারকরা। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার চরম আতঙ্কের মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানাসহ অর্থনীতির চাকা সচলে সরকারের সাহসী এবং চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্তের ফসল হচ্ছে রপ্তানির এই ইতিবাচক গতি। আমরা সঠিক সময়ে সেই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত যদি নিতে না পারতাম তাহলে রপ্তানির ধস অব্যাহত থাকত। আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াতাম?’

গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম চট্টগ্রামের প্রেসিডেন্ট এস এম আবু তৈয়ব বলেন, ‘এখন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বিদেশি ক্রেতার অর্ডার আমরা পাচ্ছি। গার্মেন্ট না খুললে এই অর্ডারই তো আমরা পেতাম না। সরকার সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করেছে বলেই বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের বিবেচনায় রাখছে। বন্ধ থাকলে তো এই শিল্পের ভবিষ্যৎই অন্ধকার থাকত।’

বিজিএমইএ নেতা আবু তৈয়ব মনে করেন, জুন মাসে রপ্তানিতে যে অগ্রগতি হয়েছে সেটি স্থায়ী নাও হতে পারে। কারণ এগুলো আগের স্থগিত হওয়া বা আটকে থাকা অর্ডার। নতুন যে অর্ডার আমরা পাচ্ছি সেগুলোর বেশির ভাগই ওয়ালমার্ট, টেসকো, কসকোসহ বিভিন্ন বিদেশি সুপারস্টোরের। এইচঅ্যান্ডএম, জারাসহ ফ্যাশন হাউসগুলোর অর্ডার আমরা পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। কারখানা খোলা থাকায় তারাও আমাদের অর্ডার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

তিনি মনে করেন, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে স্প্রিং সিজনে আমরা ভালো অর্ডার পাব এবং সেটি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। চলতি বছরের মধ্যে আমরা আগের অবস্থায় ফিরতে পারব না, কিছু ঘাটতি থেকে যেতে পারে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করে থাকে জাহাজের মেইন লাইন অপারেটর (এমএলও)।

তাদের সর্বশেষ হিসাবে, মার্চে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি পণ্য পরিবহন হয়েছে ৬১ হাজার ৭০০ একক কনটেইনার। করোনার ধাক্কায় এপ্রিলে রপ্তানিতে ধস নেমে ১৩ হাজারে নেমে আসে। মে মাসে কিছুটা বেড়ে ৩০ হাজার এককে উন্নীত হয়; জুন মাসে সেটি আরো বেড়ে ৫০ হাজার এককে উন্নীত হয়েছে। এই চিত্র থেকেই বোঝা যায় ধকল কাটিয়ে রপ্তানিতে বড় অগগ্রতি হয়েছে।

বিদেশি জাহাজ পরিচালনাকারী জিবিএক্স লজিস্টিকস লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত কালের কণ্ঠকে বলেন, জুন মাসে পণ্য রপ্তানির বেশির ভাগই আমেরিকা-কানাডাভিত্তিক। এই দুই দেশ করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার আতঙ্কে আছে; সে জন্য তারা আগেভাগেই পণ্য নিয়ে স্টক করে রাখছে। কারণ শোরুমে বিক্রি কমলেও তাদের অনলাইনে অর্ডার প্রচুর। এ জন্য মজুদ ফুরানোর আগেই মজুদ নিশ্চিত করছে তারা। তাই রপ্তানির এই চাপটা জুলাই মাসেও থাকবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর হয়ে যে রপ্তানি হয় তার বেশির ভাগই আমেরিকা-কানাডাভিত্তিক। জুন মাসে কলম্বোর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া সব জাহাজই ফুল বুকড। জুলাই মাসেও সেটি অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানামার হিসাবেও জুন মাসে আমদানি-রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানামার তথ্যের সঙ্গে জাহাজের মেইন লাইন অপারেটরদের তথ্যের পার্থক্য থাকে। বন্দরের হিসাবে জুন মাসে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ হয়েছে প্রায় ৪৯ হাজার একক কনটেইনার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা