kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

করোনায় আসছে নতুন মুদ্রানীতি

অর্থনীতির গতি ফেরানোই লক্ষ্য

জিয়াদুল ইসলাম   

৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থনীতির গতি ফেরানোই লক্ষ্য

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতি প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। করোনাকালীন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নতুন মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসের শেষের দিকে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে।

দেশের অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, করোনাকালীন অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ নতুন মুদ্রানীতির মূল ফোকাস হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক উভয় চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিতে হবে। মন্দার যে প্রভাব দেশের রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের ওপর পড়ছে এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যে যে ক্ষতি হয়েছে সেটা মোকাবেলা করার পদক্ষেপ থাকতে হবে। এ জন্য সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি দিতে হবে, যাতে বিনিয়োগ বাড়ে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনাকালে নতুন মুদ্রানীতি সম্প্রসারণমুখী হওয়া লাগবে। যাতে টাকার অভাবে কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আটকে না থাকে। এ জন্য পুনরর্থায়ন তহবিলের মাত্রা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। এ ছাড়া সরকার ঘোষিত প্রণোদনামূলক যেসব প্যাকেজ আছে, সেগুলো থেকে ঋণ বিতরণ হচ্ছে কি না সেটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে মনিটরিং অব্যাহত রাখতে হবে। বেসরকারি খাতে ঋণে গতি ফেরাতে মুদ্রানীতিতে কী ধরনের পদক্ষেপ থাকা উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করার জন্য যা যা করণীয় সেটা করতে হবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কাঙ্ক্ষিত জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বাজারে মুদ্রা ও ঋণ সরবরাহ সম্পর্কে একটি আগাম ধারণা দিতে মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিবছর মুদ্রানীতি প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়। এবারও মতামত নেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে করোনার কারণে এবার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনাসভার আয়োজন করা থেকে বিরত থাকছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পরিবর্তে মেইলে মতামত নেওয়া হচ্ছে। আর সর্বধারণের মতামত নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার মতামত দেওয়ার শেষ দিন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ মাসের শেষের দিকে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। আমরা এখন মতামত নিচ্ছি।’ করোনাকালে কী ধরনের মুদ্রানীতি দেওয়ার কথা ভাবছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয় এমন মুদ্রানীতি দেওয়া হবে।

মহামারি করোনার আগে থেকেই বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ছে ধীরগতিতে। করোনার পর থেকে এই গতি আরো মন্থর হয়ে পড়েছে। এমনকি করোনার ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ বিতরণেও তেমন গতি নেই। এতে সদ্যঃসমাপ্ত অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ব্যাংকের ঋণপ্রবাহ তলানিতে নেমে গেছে। পুরো অর্থবছরে ১৪.৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত মে পর্যন্ত বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৮.৮৬ শতাংশ; যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে এবার মুদ্রানীতির ভঙ্গিমা আরো সম্প্রসারণমুখী হওয়া দরকার।’

মন্তব্য