kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

টেলিনরের গবেষণা

করোনা-পরবর্তী কর্মক্ষেত্র অনেকটাই বদলে যাবে

বাড়ি থেকে কাজ করার ক্ষেত্রে কর্মীদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকার আরো বেশি ডিজিটাল এবং যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে মনোযোগী হবে

বিশেষ প্রতিনিধি   

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা-পরবর্তী কর্মক্ষেত্র অনেকটাই বদলে যাবে

বৈশ্বিক মহামারি-পরবর্তী বিশ্বে আর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া হবে না। অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার নতুন সব বিষয় সামনে নিয়ে এসেছে কভিড-১৯ সংকট। বিশ্বব্যাপী সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক দ্রুত ত্বরান্বিত করেছে কভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারি।

নরওয়েভিত্তিক বহুজাতিক টেলিযোগাযোগ কম্পানি ও বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের মূল অংশীদার টেলিনর তাদের এক গবেষণায় নতুন তিনটি পূর্বাভাস তুলে ধরেছে, যা ভূমিকা রাখবে নতুন বিশ্ব গঠনে। সম্প্রতি এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে টেলিনর রিসার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট গর্ম আন্দ্রিয়াস গিরননেভেত বলেন, ‘এই বৈশ্বিক মহামারি আমাদের দেখিয়েছে সব উদ্ভাবনের মূলেই রয়েছে প্রয়োজনীয়তা। এটা স্পষ্ট যে আমরা যেভাবে আমাদের শহর, প্রতিষ্ঠান ও সমাজ পরিচালনা করি সেখানে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। পেন্ডুলামের কাঁটা এখন পরিবর্তনের দিকে।’

টেলিনরের গবেষণাদলের তথ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পূর্বাভাস উঠে এসেছে তা হলো—এক. নতুন অবকাঠামো নতুনভাবে কাজের পক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। যারা এত দিন অফিসে বসে কাজ করতেন, এই বৈশ্বিক মহামারির কারণে তাঁরা বাসা থেকেই কাজ করছেন। এ বিষয়টি মানুষকে নতুন সম্ভাবনা জাগাচ্ছে যে প্রথাগত অফিস অতটা প্রয়োজনীয় নয়। অনেকেই দূরবর্তী স্থান থেকে কাজ করার বিষয়টির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে শুরু করেছেন। বাড়ি থেকে কিংবা কাজের পরিবেশ বজায় রেখে বাড়ির নিকটবর্তী দূরত্ব থেকে কাজ করছেন। এ পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে বৈশ্বিক মহামারি। বাড়ি কিংবা নিরপেক্ষ কর্মপরিবেশ থেকে কাজ করার ক্ষেত্রে কর্মীদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকার আরো বেশি ডিজিটাল এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে শহরগুলোকে কিভাবে সংগঠিত করা যায়, তা নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু করবে।

এ ক্ষেত্রে নতুন কাজের ক্ষেত্র কর্মীদের শহরের নানা প্রান্তে এবং আবাসিক এলাকার কাছাকাছি থাকতে সহায়তা করবে, যা যাতায়াতের সময় বাঁচাবে।

দুই. করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনের প্রভাব গিয়ে পড়েছে অর্থনীতির ওপর। এরই মধ্যে কভিডের কারণে চাকরির বাজার সংকুচিত হলেও মহামারির কারণে উদ্ভূত চাহিদা এবং অভিবাসন সম্পর্কিত নতুন সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা নতুন ধরনের চাকরির সম্ভাবনাও দেখছি। চাকরি হারানো কর্মী ও নতুন মানবসম্পদের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে প্রথাগত পদ্ধতিতে নিয়োগ বেশ দীর্ঘ সময় নেবে এবং এ ক্ষেত্রে দক্ষতারও যুগোপযোগী পরিবর্তন প্রয়োজন। আমাদের অনুমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আরো কার্যকর উপায়ে কর্মী নিয়োগের বিষয়ের ক্ষেত্রে রূপান্তর ঘটাবে।

নিয়োগকর্তা ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে অ্যালগরিদম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই-বাছাই করে অনুপযুক্ত প্রার্থীকে বাদ দেবে এবং উপযুক্ত প্রার্থীকে নিয়োকর্তার সঙ্গে সংযুক্ত করবে। এআইর দ্রুত ও নির্ভুল প্রক্রিয়ায় শুধু চাকরিপ্রত্যাশী ও নিয়োগকর্তার অর্থ ও সময়ই বাঁচাবে না, পাশাপাশি সঠিক কর্মী ও নিয়োগকর্তার যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত কর্মী হারানোর আশঙ্কা কমিয়ে আনবে।

তিন. সংক্রামক রোগ প্রসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে ডাটা ক্রমান্বয়েই গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে। জরুরি জনস্বাস্থ্যের পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল উপায়ে এবং বেনামে টেলকো ডাটা ব্যবহার করা হতে পারে। গতিবিধি বিশ্লেষণ রোগ পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি তথ্য প্রদানের সম্ভাবনা রয়েছে। এ তথ্য স্মার্ট সিটি পরিকল্পনা, পরিবেশগত বিশ্লেষণে সহায়তাসহ শিল্প খাত—যেমন ভ্রমণ খাতের প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা