kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

লোকসানে ডুবছে হোটেল ব্যবসা

কয়েক হাজার মানুষ কর্মহীন হওয়ার পথে

কৌশিক দে, খুলনা   

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লোকসানে ডুবছে হোটেল ব্যবসা

করোনাভাইরাসের প্রকোপে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খুলনার আটটি তারকা হোটেলসহ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও অতিথিশালা। মোটা অঙ্কের ব্যাংকঋণ ও অর্থ বিনিয়োগ করে অভিজাত হোটেল মালিকরা পথে বসতে চলেছেন। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এসব হোটেল-মোটেলে অতিথির সংখ্যা ৫-১০ শতাংশে নেমেছে। কোনো কোনোটিতে এ হার শূন্য।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। এতে হোটেল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত কয়েক হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে। ফলে ব্যবসায়ীরা তাঁদের রক্ষায় স্বল্প ও সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ, আর্থিক প্রণোদনাসহ সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, খুলনায় ছোট-বড় তারকা হোটেলের সংখ্যা বর্তমানে ৯টি। এর মধ্যে তিনতারা হোটেল সিটি ইন, ক্যাসেল সালাম ও হোটেল টাইগার গার্ডেন। অন্য তারকা হোটেলগুলো হচ্ছে হোটেল রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল ওয়েস্টার্ন ইন, হোটেল মিলিনিয়াম, হোটেল অ্যাম্বাসাডর, হোটেল জেলিকো, ডিএস প্লাজা। এ ছাড়া অভিজাত ও মধ্যমমানের আরো বেশ কয়েকটি রেস্টহাউস, হোটেল রয়েছে। সব মিলিয়ে এ সংখ্যা প্রায় ১০০।

খুলনার অভিজাত হোটেল সিটি ইনের প্রধান উপদেষ্টা এস এম হাবিব বলেন, ‘হোটেল ব্যবসায় এমন অবস্থা আগে কখনো হয়নি। বর্তমান হোটেল খোলা রাখাই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। যেখানে দৈনিক ৬০-৭০টি কক্ষ ভাড়া স্বাভাবিক ছিল, সেখানে এখন প্রতিদিন পাঁচ-ছয়টি কক্ষ ভাড়া হচ্ছে না। রেস্টুরেন্ট, সেমিনার, হলরুমগুলো তো অলস পড়ে আছে। অথচ প্রতি মাসে রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় কী হবে বলা মুশকিল।’

হোটেল রয়্যাল ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. ফয়সাল ইসলাম বলেন, ‘অতিথি নেই বললেই চলে। আর রেস্টুরেন্টে কেউ আসতে চায় না। ফলে প্রতিদিনই হোটেলগুলো লোকসানে পড়ছে। আবার বর্তমান পরিস্থিতিতে হোটেলে আগত অতিথিদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার জন্য হোটেলগুলোতে নতুন সরঞ্জাম সংযুক্ত করতে হবে। এতে ব্যাপক অর্থ প্রয়োজন। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা খুব প্রয়োজন। হোটেলগুলোকে স্বল্প ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, নতুন নিরাপত্তা সরঞ্জাম আমদানিতে ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফ করতে হবে।’

টোয়াস সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আযম ডেভিড হোটেল ব্যবসার বর্তমান অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এখন সবার টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা