kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

আয় কমল ৫৮ হাজার কোটি টাকা

রপ্তানি আয়ে ধস

► বিদায়ি অর্থবছরে রপ্তানি কমেছে ১৭ শতাংশ
► লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে ২৬ শতাংশ
► আয় কমেছে ৫৮ হাজার কোটি টাকা
► সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে পোশাক খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রপ্তানি আয়ে ধস

পোশাককর্মীদের আগের সেই ব্যস্ততা এখন আর নেই। ছবি : কালের কণ্ঠ

রপ্তানি খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে সদ্যঃসমাপ্ত অর্থবছরে। আগের অর্থবছরের তুলনায় সমাপ্ত অর্থবছরটিতে সার্বিক রপ্তানি কমেছে ১৭ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা থেকে আয় কম হয়েছে ২৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাবে এই অবস্থা দাঁড়িয়েছে। অবশ্য, করোনার আগে থেকেই রপ্তানিতে ধারাবাহিকভাবে কিছুটা ঋণাত্মক গতি ছিল। করোনা সেই অবস্থাকে আরো নাজুক করে তুলেছে।

সদ্যঃসমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে অর্থমূল্যে রপ্তানি কম হয়েছে ৬৮৬ কোটি ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা। মোট তিন হাজার ৩৬৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে বছরজুড়ে। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল চার হাজার ৫৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক রপ্তানি হয়েছে মোট দুই হাজার ৭৮৩ কোটি ডলারের। আগের অর্থবছরে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৪১৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ শুধু পোশাকের রপ্তানিই কমেছে ৬৩০ কোটি ডলার। অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা থেকে আয় কম হয়েছে এক হাজার ১৮৩ কোটি ডলার। সমাপ্ত অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার হাজার ৫৫০ কোটি ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ওয়েবসাইটে গতকাল রবিবার এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

দেশের রপ্তানির ইতিহাসে এত বড় ধস এর আগে কখনো দেখেননি জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, ‘পোশাক রপ্তানির প্রকৃত বাস্তবতা উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে। কভিড-১৯-এর কারণে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়েছে। তিনি জানান, নতুন রপ্তানি আদেশও খুব বেশি আসছে না। কারণ বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে এসেছে। কবে নাগাদ এ অবস্থা কাটবে—তা বলা যাচ্ছে না।

বিজিএমইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থবছরের শেষ মাস গত জুনে পোশাক রপ্তানি ১১.৪৩ শতাংশ কম হয়েছে। মে মাসে কম ছিল ৬২ শতাংশ আর এপ্রিলে কম ছিল ৮৫ শতাংশ। তার আগের মাস মার্চেও ২০ শতাংশ কম ছিল। এই চার মাসে কভিড-১৯-এর বড় ধরনের প্রভাবে এত বেশি হালেও রপ্তানি কম হয়েছে। ওই অর্থবছরের প্রায় সব মাসেই রপ্তানি ঋণাত্মক ধারায় ছিল। ১০ শতাংশ বেশি আয় নিয়ে অর্থবছর শুরু হলেও দ্বিতীয় মাস আগস্টে রপ্তানি ১১ শতাংশ কমে যায়। এর পরের টানা তিন মাসও বিভিন্ন হারে কমেছে রপ্তানি।

ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, পাট এবং ওষুধ ছাড়া পণ্য তালিকার উল্লেখযোগ্য আর কোনো পণ্যেরই রপ্তানি বাড়েনি বছরটিতে। পাটের রপ্তানি বেড়েছে আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ। মোট ৮৮ কোটি ডলারের পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি হয়েছে। অন্যদিকে ওষুধের রপ্তানি বেড়েছে ৪ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ১৪ কোটি ডলারের ওষুধ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা