kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর ও সোনাদিয়া পর্যটনকেন্দ্র

ঘর পাবে অর্থনৈতিক অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত ৮০০ পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘর পাবে অর্থনৈতিক অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত ৮০০ পরিবার

প্রস্তাবিত বাড়ির নকশা। ছবি : বেজার সৌজন্যে

এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল হলো চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর। ৩০ হাজার একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলটি করতে গিয়ে অনেকে উচ্ছেদ হয়েছে। রাস্তার পাশে যারা বসবাস করত, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাদের দোকান ছিল কিংবা যাদের জমি ছিল, তাদের জমি অধিগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে তিন গুণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরও সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে যারা উচ্ছেদ হয়েছে তাদের ঘর করে পুনর্বাসন করে দেওয়া হবে। এরই মধ্যে মিরসরাইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদের বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের পাশে প্রত্যেককে পাঁচ শতক জায়গার ওপর বাড়ি করে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

শুধু থাকার ব্যবস্থাই নয়, সন্তানদের পড়াশেনার জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। চিকিৎসার জন্য থাকবে হাসপাতাল। খেলাধুলার জন্য থাকবে মাঠ। মানুষের কেনাকাটার জন্য তৈরি করা হবে বাজার। নির্মাণ করা হবে মসজিদ। নলকূপ ও পুকুরও থাকবে।

বেজার কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জন্য এমনভাবে পুনর্বাসন করা হবে, যেখানে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। সোনাদিয়ায় ইকো ট্যুরিজম পার্কেও ৪০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সমানভাবে পুনর্বাসন করবে বেজা। সেখানেও সমান সুযোগ থাকবে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলে তাদের কর্মসংস্থানের আশ্বাসও দিয়েছে বেজা। পুনর্বাসনের প্রস্তাবে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন করেছেন। পুরো ৮০০ পরিবারকে পুনর্বাসনে বেজার খরচ হবে ৪০ কোটি টাকা। পুরো টাকাই বেজার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন উন্নয়ন করতে হবে সবাইকে নিয়ে। কাউকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন করা যাবে না। জনগণের কল্যাণের জন্যই উন্নয়ন। সে জন্য মিরসরাই ও কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের ঘর বানিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া অন্য সুযোগ-সুবিধাও করে দেওয়া হবে ক্ষতিগ্রস্তদের।’

বেজার কর্মকর্তারা বলছেন, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে এরই মধ্যে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে জমি বরাদ্দ দেওয়া চূড়ান্ত হয়েছে। সেখানে বিনিয়োগের প্রস্তাব গেছে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৫০০ কোটি ডলার। এ ছাড়া কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে প্রায় ১০ হাজার একর আন্তর্জাতিক মানের ইকো-ট্যুরিজম পার্ক প্রতিষ্ঠায় বেজা মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ হাত দিয়েছে, যা চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে আন্তর্জাতিক মানের ইকো-ট্যুরিজম পার্ক বা পর্যটনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীন দরিদ্রদের ঘর বানিয়ে দিতে বেজা ভূমি উন্নয়নকাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন করে সদস্যের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে। এ বিষয়ে করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বেজার। অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এ সহায়তা করবে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের বাইরে। বেজার কর্মকর্তারা বলছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মালিকরা তাদের জমির বিপরীতে বর্তমান আইন অনুযায়ী তিন গুণ মূল্য পাচ্ছে। আর যাদের জমি ছিল না, সরকারি অথবা খাসজমিতে বসবাস করছিল, তাদের জন্যই মূলত ঘর করে দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে বেজা। যার প্রস্তাবে এরই মধ্যে সরকারপ্রধানের অনুমোদন মিলেছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা