kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

পোশাকে রপ্তানি আয় কমেছে ৫৩ হাজার কোটি টাকা

ধর্মীয় উৎসব ঘিরে ইউরোপ-আমেরিকায় পোশাক রপ্তানি বাড়ার আশা বিশ্লেষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পোশাকে রপ্তানি আয় কমেছে ৫৩ হাজার কোটি টাকা

বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯-এর প্রভাবে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে দেশের রপ্তানি আয়ের শীর্ষ খাত তৈরি পোশাক শিল্প। বিশেষ করে সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপ এবং আমেরিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর বড় ধাক্কাটা এসেছে বাংলাদেশে। ফলে গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে তলানিতে পড়েছে পোশাক রপ্তানি।  

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সদ্যঃসমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে পোশাক পণ্য রপ্তানি কমেছে আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা। পোশাক রপ্তানিতে এমন ভয়াবহ ধস গত চার দশকে দেখেননি রপ্তানিকারকরা।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানি করেছিল তিন হাজার ৪১৩ কোটি ডলারের। সদ্যঃসমাপ্ত অর্থবছরে তা নেমে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৭৮৩ কোটি ডলারে। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, আগামী মাসগুলোয়ও পরিস্থিতির বিশেষ কোনো উন্নতির লক্ষণ দেখছেন না তাঁরা। দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান স্টারলিং গ্রুপের মালিক ও এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, চলতি মাসের কিছু ক্রয়াদেশ তাঁর কারখানায় রয়েছে। কিন্তু আগস্ট থেকে পরবর্তী মাসগুলোর রপ্তানি আদেশ নেই বললেই চলে। সেপ্টেম্বর থেকে মূলত পরবর্তী গ্রীষ্মের রপ্তানির পণ্য তাঁরা তৈরি করেন। এসব ক্রয়াদেশ নিয়ে মূলত এই সময়টিতে আলোচনা হয়। কিন্তু এবার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। রপ্তানির অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাবে আশঙ্কা করে তিনি বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত পর্যটকের স্বাভাবিক চলাচল শুরু না হবে, তত দিন পোশাকজাতীয় পণ্য তেমন বিক্রি হবে না। ফলে আমাদের রপ্তানি আদেশও কমতির দিকেই থাকবে।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘করোনা শুরুর সময় পরিস্থিতি যতটা খারাপ ছিল, এখন তার অগ্রগতি হয়েছে। আগামী দিনে ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের বড়ো ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের কেনাকাটা হবে। হয়তো কিছুটা কম হবে। কিন্তু অনলাইন বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি হবে।’ সূত্র জানিয়েছে, সদ্যঃসমাপ্ত জুনে রপ্তানি পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। গত এপ্রিলে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল মাত্র সাড়ে ৩৭ কোটি ডলার। মে মাসে ১২০ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর জুনে এসে রপ্তানি হয়েছে ২১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের এবং রপ্তানির নেতিবাচক ধারা থেকেও বের হয়ে আসার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা