kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের অগ্রগতি জানতে চায় বিএসইসি

প্রতিটি ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার তহবিল করতে পারবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের অগ্রগতি জানতে চায় বিএসইসি

দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগ সীমার বাইরে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য প্রতিটি ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকা করে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত তারল্য সংকট কাটিয়ে পুঁজিবাজার গতিশীল করতে পাঁচ বছরে জন্য এই সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তহবিল গঠনের পর দেখা যায় বিনিয়োগের পরিমাণ খুবই কম। এই অবস্থায় তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের বিষয়ে জানতে চেয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সম্প্রতি ব্যাংকগুলোকে বিএসইসির পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়। আগামী সাত দিনের মধ্যে ব্যাংকগুলোর বিশেষ ফান্ড গঠন ও বিনিয়োগ সম্পর্কে জানাতে বলা হয়েছে। এর আগেও বিশেষ তহবিল গঠন ও বিনিয়োগের বিষয়ে তদারকি করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছিলেন বিএসইসির চেয়্যারম্যান ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

কমিশনের চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারবাজারে তারল্য সমাধানে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি ব্যাংকের জন্য ২০০ কোটি টাকার বিশেষ ফান্ড গঠনের জন্য সার্কুলার জারি করে। এ বিষয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ধারা ১১(২) অনুযায়ী, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে ফান্ড গঠন ও বিনিয়োগের তথ্য জানানোর জন্য বিএসইসি চিঠিতে অনুরোধ করেছে।

২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময় তারল্য সংকটের মধ্যে পড়ে পুঁজিবাজার। এই অবস্থায় আস্থাহীনতার কারণে বাজারে ধারাবাহিক দরপতন দেখা দেয়। গত ডিসেম্বরে ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক স্বল্পসুদে বাজার সাপোর্ট দিতে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। তবে ব্রোকারেজ হাউসকে টাকা না দিয়ে ব্যাংকের বিশেষ তহবিল গঠন করার অনুমতি দেওয়া হয়। এতে দেশে ৫৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা তহবিল গঠনের সুযোগ পায় তফসিলি ব্যাংক।

আগামী ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত যেকোনো তফসিলি ব্যাংক রেপোর মাধ্যমে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। তফসিলি ব্যাংকগুলো চাইলে নিজস্ব উত্স থেকে তহবিল জোগান দিতে পারে। এ ছাড়া ট্রেজারি বিল বা বন্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক তহবিল সংগ্রহ করবে পারবে। ট্রেজারি বন্ড বা বিলের রেপো মূল্যের ৫ শতাংশ মার্জিন হিসেবে রেখে তারল্য সুবিধা দেওয়া হবে। নগদ রেপোর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখে সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজের বাজারমূল্য আদায়যোগ্য অর্থ অপেক্ষা কম হলে তা ইতিপূর্বে নেওয়া মার্জিন থেকে সমন্বয় করা হবে।

জানা যায়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সীমার বাইরে ২০০ কোটি টাকা করে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেওয়া হলেও খুব বেশি আগ্রহী হয়নি ব্যাংকগুলো। গত ফেব্রুয়ারিতে এই তহবিল গঠনের সুযোগ দিলে অন্তত ১৪টি ব্যাংক তহবিল গঠনে আগ্রহী হয়েছে। তারা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ শুরুর উদ্যোগও নিয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক বিনিয়োগ শুরু করলেও করোনাভাইরাসের আঘাতে তারা পিছিয়েছে।

মন্তব্য