kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন

সোয়া লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিল

► ২০১৯ সালেই ৫৩ হাজার কোটি টাকা
► এ সুবিধা ব্যাংকিং খাতের জন্য খারাপ হচ্ছে, বলছেন অর্থনীতিবিদরা

জিয়াদুল ইসলাম   

১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোয়া লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিল

২০১৯ সালে দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিল বা নিয়মিত করা হয়েছে। এর আগে কোনো বছরেই এত পরিমাণ খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিল হয়নি। সব মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিল করা হয়েছে। এর বাইরে মূল হিসাব থেকে গত বছর অবলোপনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ বাদ দেওয়া হয়েছে তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৯ সালের ফিন্যানশিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, খেলাপিদের গণছাড়ে গত বছরের শেষের দিকে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিল হয়েছে। তবে গণছাড়ে যত না খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিল হয়েছে, তার চেয়েও বেশি করা হয়েছে বিদ্যমান নীতিমালার আওতায়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বারবার ঋণখেলাপিদের এই সুযোগ দেওয়াটা ইতিবাচক কিছু বয়ে আনছে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকৃত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বিশেষ ক্ষেত্রে এ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আমরা তো ঢালাওভাবে সবাইকে দিচ্ছি। যা মোটেও কাম্য নয়। এতে ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট আরো গভীরতর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে ২০১৯ সালের ১৬ মে ঋণ পুনঃ তফসিল ও এককালীন এক্সিটসংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা জারি করা হয়। এ সার্কুলারের আওতায় যেসব ঋণ ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর মন্দমানে শ্রেণীকৃত রয়েছে সেসব খেলাপির অনুকূলে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট আদায় সাপেক্ষে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে পুনঃ তফসিল এবং ৩৬০ দিন মেয়াদে এককালীন এক্সিট সুবিধা প্রদান করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। চলতি ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সুবিধা বহাল ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে সব সময় স্বচ্ছতা থাকা দরকার। কারণ ব্যাংক জনগণের টাকা নিয়ে কাজ করে। তাই খারাপ অবস্থা ঢেকে-চেপে রাখার জন্য এ ধরনের সুবিধা দেওয়াটা মোটেও ঠিক হচ্ছে না। এতে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, পুনঃ তফসিল ও এককালীন এক্সিট নীতিমালার আওতায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে ১৮ হাজার ৭২০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিল করা হয়। যার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে হয় ১১ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে হয় ছয় হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। আর বিশেষায়িত দুই ব্যাংকে হয় মাত্র ৪৩৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত বছর ৩১ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিল হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা