kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

বিশ্ববাজারে আবারও দাম বাড়ল

মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে সোনার অলংকার

- নিরাপদ বিনিয়োগ ভাবনায় বেড়েছে দাম - দেশে ক্রেতা কমবে ১৫-২০ শতাংশ

রোকন মাহমুদ   

২৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে সোনার অলংকার

রাজধানীর একটি জুয়েলারি দোকানে ক্রেতারা। ছবি : লুৎফর রহমান

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম। যা গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সামনের দিনগুলোতে দাম আরো বাড়তে পারে—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসও। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সোনার দাম আউন্সপ্রতি দুই হাজার ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এভাবে মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের মধ্যবিত্তরা সোনা কেনার সামর্থ্য একেবারেই হারিয়ে ফেলল বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

আর দেশি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই দুর্মূল্যের মন্দা বাজারে সোনার ব্যবসায় আরো মন্দা দেখা দেবে। দেশের বেশির ভাগ ক্রেতা ব্যবহারের জন্য কেনে বিধায় মূল্যবৃদ্ধিতে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ক্রেতা কমার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, অতীতে দেশের বাজারে সোনার দাম সাধারণত ভরিতে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা হ্রাস-বৃদ্ধি করা হতো। তবে এবার সবচেয়ে ভালো মানের সোনার দর (২২ ক্যারেট) এক লাফে পাঁচ হাজার ৭১৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে জুয়েলার্স সমিতি। নতুন দর অনুযায়ী গত মঙ্গলবার থেকে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনা ৬৯ হাজার ৮৬৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬৬ হাজার ৭১৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫৭ হাজার ৯৭০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৪৭ হাজার ৬৪৭ টাকায়।

আগের দিন সোমবার পর্যন্ত প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনা ৬৪ হাজার ১৫২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬১ হাজার ৮১৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫৬ হাজার ৮০৪ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা বিক্রি হয়েছে ৪৪ হাজার ৩১ টাকায়। এর আগেও গত ২৮ মে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল এক হাজার ৭১৯ ইউএস ডলার। সোমবার রাতে সমিতির ঘোষণার সময় সেটি বেড়ে এক হাজার ৭৫৭ ডলার হয়েছে। মঙ্গলবার দাম ছিল এক হাজার ৭৬৮ ডলার।

বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আগরওয়ালা কালের কণ্ঠকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে আট বছরের মধ্যে সোনার দাম সর্বোচ্চ ওপরে উঠেছে। দেশের বাজারে সমন্বয় না থাকলে সোনা পাচার হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এই দাম বাড়ার ফলে তাঁদের মন্দা ব্যবসায় আরো মন্দা হবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

আগরওয়ালা বলেন, ‘সোনা হলো শৌখিন বা বিলাসী পণ্য। মানুষের কাছে অতিরিক্ত টাকা থাকলেই এটি কেনে। এখন অর্থনৈতিক যে পরিস্থিতি তাতে আমাদের ক্রেতা কমে গেছে ৮২ থেকে ৮৩ শতাংশ। আগামী দিনগুলোতে এই ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ ক্রেতাও পাওয়া যাবে না বলে মনে হচ্ছে। এটি ১০ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও দাম বেশি থাকলে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ক্রেতা কমে আসবে।’ তবে আমদানি পুরোদমে শুরু হলে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো চলা শুরু করলে সোনার সরবরাহ বাড়বে। তখন দাম কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

তিনি বলেন, এখন দেশের বাইরে থেকে লোকজন আসা-যাওয়া কমে যাওয়ায় তারা যে সোনা আনত তা আসছে না। তার ওপর আমদানিও হচ্ছে না। যাঁরা লাইসেন্স নিয়েছেন তাঁরা আমদানি শুরু করলে সরবরাহ বাড়বে।

সোনার সম্ভাব্য বাজার পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস প্রকাশ করে থাকে গোল্ডম্যান স্যাকস। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বৈশ্বিক মন্দায় বিনিয়োগকারীরা সোনাকেই নিরাপদ মনে করছে। সংস্থাটি স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ—তিন মেয়াদে সোনার সম্ভাব্য সর্বোচ্চ দামের প্রাক্কলন করেছে। তারা বলছে, স্বল্প মেয়াদে বা পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম এক হাজার ৮০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে। মধ্য মেয়াদে বা ছয় মাসের মধ্যে মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি এক হাজার ৯০০ ডলার হতে পারে। আর দীর্ঘ মেয়াদ বা এক বছরের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম উঠতে পারে দুই হাজার ডলারে।

এত দিন মধ্যবিত্ত যে ক্রেতাশ্রেণি কিছুটা হলেও সোনা কিনতে পারত, এখন তাও পারবে না বলে মনে করছেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, নিম্নবিত্তরা তো আগে থেকেই ইমিটেশন বা রুপার গয়না দিয়ে চাহিদা মেটাত। এখন মধ্যবিত্তদেরও তাই করতে হবে। কারণ এই বাজারে তাদের পক্ষে সোনা কেনা সম্ভব নয়। তবে অনেকের অলস টাকা রয়েছে, তারা হয়তো বিনিয়োগ হিসেবে কিনে রাখবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা