kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

৯% সুদে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে

জিয়াদুল ইসলাম   

২৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



৯% সুদে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে

বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো এটা আগেই নামিয়ে এনেছে। আর ১ এপ্রিল থেকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোও এটা কার্যকর করেছে। ফলে আমদানি-রপ্তানিসহ বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে। বিদ্যমান শিল্পের সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে, সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। সেই সঙ্গে উৎপাদন খরচ কমলে পণ্যমূল্যও কমবে। এতে দেশের সব মানুষ উপকৃত হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম। তিনি বলেন, তিন বছরের মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হারও সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা হবে। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাংক খাতের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন।

জাতির পিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার আবহে নিজ প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছেন ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’। তাঁর ধারণার আদলে বর্তমানে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শামস-উল ইসলাম বলন, ‘দেশের ১৬ কোটি মানুষ আমাদের ব্যাংকের মালিক। তাই মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এ দায়বদ্ধতা থেকে ৩৬টির মতো সেবা বিনা চার্জে দিচ্ছে অগ্রণী ব্যাংক। কারণ মুনাফা করাই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। অর্থনৈতিক মুনাফা যেমন করতে হবে, তেমনি সামাজিক মুনাফাও করতে হবে।’

সফলভাবে এক মেয়াদ শেষ করে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ এই ব্যাংকার জানান, চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে অগ্রণী ব্যাংক ৪৩৬ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে। যা ২০১৯ সালে মার্চ প্রান্তিকে ছিল মাত্র ৫৯ কোটি টাকা। এ সময়ে লোকসানি শাখা ৮৮টি থেকে ৬০টিতে নেমে এসেছে। খেলাপি ঋণের হার সাড়ে ১২ শতাংশের নিচে নেমেছে। এ ছাড়া বৈদেশিক রেমিট্যান্স আহরণে পাঁচ বছর যাবৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রথম এবং সব ব্যাংকের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে আসছে অগ্রণী ব্যাংক।

মহামারি করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রায় সব খাতই বিপর্যস্ত। ব্যাংকিং খাতে করোনার প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, করোনা কারো প্রতি করুণা করবে না, সেটা এরই মধ্যে জানান দিয়েছে। এর প্রভাব ব্যাংকিং খাতেও পড়ছে। আমদানি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স ব্যবসা কমে গেছে। ঋণ আদায়ও প্রায় বন্ধ। নতুন আমানতও সেভাবে আসছে না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণের সুদ ৯ শতাংশ বাস্তবায়নে ব্যাংকিং খাতে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না কোনো সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ আছে। আমরা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো আগে থেকেই ৯ শতাংশ সুদ কার্যকর করেছি। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের কারণে ১ এপ্রিল থেকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও ৯ শতাংশ সুদ কার্যকর হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সুদের হার বেশি হলে ব্যবসার খরচ বাড়ে, পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের পণ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের বাজারে তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য হলেও ঋণের ৯ শতাংশ সুদ বাস্তবায়িত হওয়া উচিত। এটা হলে শুধু ব্যবসয়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাই নয়, দেশের সব মানুষই উপকৃত হবে। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

উচ্চ খেলাপি ঋণের চাপ ও ৯ শতাংশ সুদ কার্যকরের পরও আশাব্যঞ্জক পরিচালন মুনাফা অর্জন কিভাবে সম্ভব হলো—জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি বলেন, ‘যখন দেখেছি যে আমাদের সুদের হার কমিয়ে দিতে হবে, তখন কিন্তু আমরা বিকল্প যতগুলো রাস্তা আছে আয় বাড়ানোর সবগুলোতে হাত দিয়েছি। সমান তালে আমরা চলেছি। আমরা আদায়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। এমডি থেকে শুরু করে সবার কিন্তু আদায়ের টার্গেট ছিল। কে কত আদায়  করতে পারবে এটা মনিটরিং হতো। খারাপ ঋণ আদায়ের বিপরীতে কর্মীদের প্রণোদনা দিয়েছি। আবার শাস্তিও ছিল কেউ যদি টার্গেট ফিলআপ না করতে পারে বদলি করা হবে, প্রমোশন দেওয়া হবে না।

শামস-উল ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে আমাদের ব্যাংকের খলাপি ঋণ এখন সর্বনিম্ন। কিন্তু আমি মনে করি না এখানে আত্মতুষ্টির সুযোগ আছে। আমাদের টার্গেট রয়েছে আগামী তিন বছরের মধ্যে এটা সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যেই যাচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা থেকে এ ব্যাংকার নিজ উদ্যোগে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সপ্তম তলায় জাতির জনকের ম্যুরালসহ বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করেছেন। বঙ্গবন্ধু কর্নার করার অনুপ্রেরণা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাত বছর আমি দেশের বাইরে ব্যাংকিং করেছি। ক্যারিয়ারের ১৬ বছর কাটিয়েছি চট্টগ্রামে। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি আমি জিএম পদোন্নতি পেয়ে প্রধান কার্যালয়ে আসি। সিলেট যাওয়ার পর আমার মনে হলো, দেশ স্বাধীন না হলে আমি জিএম হতে পারতাম না। আমি ভাবলাম, জাতির পিতাকে কিভাবে কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানানো যায়। আমি চিন্তা করলাম করপোরেট আবহের কোনো একটি জায়গায় বঙ্গবন্ধুর ওপর কর্নার করতে, যেখানে শুধু বঙ্গবন্ধুর ওপর বই থাকবে। এটা নিয়ে যে এত প্রচার হবে, এটা যে জাতীয় পর্যায়ে চলে যাবে, তা আমি চিন্তাও করিনি। এখন তো শুধু ব্যাংক নয়, দেশে বা বিদেশের বিভিন্ন এম্বাসি ও হাইকমিশনেও বঙ্গবন্ধু কর্নার করা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা