kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

চড়েছে কলমানির সুদ

ঈদের আগে নগদ টাকার চাহিদা বাড়ায় কলমানিতে অস্বাভাবিকভাবে লেনদেন বেড়ে গিয়েছিল

জিয়াদুল ইসলাম   

৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চড়েছে কলমানির সুদ

স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন চালুর পরই চড়েছে আন্ত ব্যাংক কলমানি বাজারের সুদের হার। গত ৩১ মে থেকে এই বাজারের সুদের হার দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়ে সাড়ে ৫ শতাংশে উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ ছুটি শেষে ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন চালু হয়েছে। খুলেছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানও। ফলে আন্ত ব্যাংক কলমানিতে কিছুটা চাপ পড়েছে।

সংকটের সময় এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে, আবার ব্যাংক থেকে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িক সময়ের জন্য টাকা ধার নেয়। সাধারণত এক রাতের জন্য এই ধার নেওয়া হয়। এই ধার দেওয়া-নেওয়া কার্যক্রম যে ব্যবস্থায় সম্পন্ন হয় তা আন্ত ব্যাংক কলমানি বাজার নামে পরিচিত। অন্যদিকে যে সুদহারে বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয়, তা-ই রেপো রেট বা নীতি সুদহার। বর্তমানে রেপোর সুদহার ৫.২৫ শতাংশ।

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ও সংক্রমণ রোধে সরকার কর্তৃক ২৬শে মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে জরুরি সেবার আওতায় চলমান সাধারণ ছুটির মধ্যেও সীমিত পরিসরে চালু রাখা হয় ব্যাংকের লেনদেন। করোনার কারণে সীমিত পরিসরের এই লেনদেন কার্যদিবসগুলোতে নগদ টাকার চাহিদা বাড়লেও কলমানির সুদের হার ৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত ছিল। এমনকি ঈদের আগের কার্যদিবসগুলোতেও বাড়েনি কলমানির সুদের হার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, সাধারণ ছুটির সময় ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় কলমানিতে ব্যাংক টু ব্যাংক লেনদেন হয়েছে। ফলে সুদের হার ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল। কিন্তু সাধারণ ছুটি শেষে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম চালু করেছে। ফলে তারা কলমানি থেকে আবার অর্থ ধার নেওয়া শুরু করেছে। এতে কলমানিতে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে ব্যাংক টু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদের হার দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়ে সাড়ে ৫ শতাংশে উঠেছে।

করোনার কারণে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে সহায়তা ও মুদ্রাবাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার (সিআরআর) দুই দফায় দেড় শতাংশ কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে ১৯ হাজার কোটি টাকা তহবিল পেয়েছে ব্যাংকগুলো। তবে আগে থেকে সীমাতিরিক্ত বিনিয়োগ ও করোনার কারণে দুই মাস ধরে ব্যাংকে জমার চেয়ে উত্তোলন বেশি হওয়ায় নগদ টাকার সংকটে আছে কিছু কিছু ব্যাংক। ফলে তারা আন্ত ব্যাংক কলমানির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপো ব্যবস্থায়ও অর্থ ধার নিচ্ছে। অন্যদিকে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সিকিউরিটিজ না থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপো ব্যবস্থায় অর্থ ধার নিতে পারছে না। ফলে তারা কলমানি বাজারের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এতে বেড়ে গেছে কলমানির সুদের হার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গতকাল কলমানি বাজারে ব্যাংক টু ব্যাংক ৫ শতাংশ সুদে লেনদেন হয়েছে। আর ব্যাংক টু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লেনদেন হয়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ সুদে। গত ৩১ মে থেকে কলমানি বাজারে এই সুদেই লেনদেন হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যে আরো দেখা যায়, ঈদের আগে নগদ টাকার চাহিদা বাড়ায় কলমানিতে অস্বাভাবিকভাবে লেনদেন বেড়ে গিয়েছিল। ওই সময় টানা কয়েক দিন ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। তবে লেনদেন বাড়লেও সুদের হার ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল। ঈদের পর প্রথম দুই কার্যদিবসেও সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা ছিল। ওই সময়েও সুদের হার ছিল ৫ শতাংশই। তবে সাধারণ ছুটি শেষে স্বাভাবিক লেনদেন চালুর পরে সুদের হার দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে লেনদেন সাত হাজার থেকে আট হাজার কোটি টাকার ঘরে নেমেছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা