kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

পুঁজিবাজারে বড় উত্থান

৬৬ দিন পর আবার লেনদেন

রফিকুল ইসলাম   

১ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুঁজিবাজারে বড় উত্থান

টািনা ৬৬ দিন বন্ধ শেষে খোলার পর পুঁজিবাজারে উত্থান হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ‘সীমিত’ লেনদেনে দুই বাজারে মূল্যসূচকে বড় উত্থান হয়েছে। লেনদেনে ধীরগতি থাকলেও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে পুঁজিবাজার। যদিও বিগত দিনে করোনার কারণে পুঁজিবাজারে ব্যাপক পতন হয়। লেনদেনের সময় কমানোর পরও পতন থামানো যায়নি। অগত্যা সরকারি ছুটির সঙ্গে গত ২৬ মার্চ থেকে লেনদেন বন্ধ ছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনা শঙ্কা কাটিয়ে পুঁজিবাজারে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিনিয়োগকারীকে বাজারে আনা ও আস্থা ফেরানোই হবে চ্যালেঞ্জ। কারণ করোনার ধাক্কায় পুঁজিবাজারের ২৬ লাখ বিনিয়োগকারী ৩০ হাজার কোটি টাকার মূলধন খুইয়েছেন। কেউ হারিয়েছেন অর্ধেক কেউ বা সবটুকু হারিয়ে এখন অনেকটাই পুঁজিবাজার বিমুখ।

করোনায় সাধারণ ছুটি কাটিয়ে গতকাল রবিবার পুঁজিবাজারে প্রথম লেনদেন হয়েছে। লেনদেন শুরুর পর শেয়ার কেনার চাপে সূচকে উত্থান হয়েছে। বেড়েছে লেনদেনও। ওষুধ ও বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট কম্পানিগুলোর শেয়ার কিনতে বিনিয়োগকারীর আগ্রহ ব্যাপক দেখা গেলেও ব্যাংক ও অন্যান্য খাতের শেয়ারে ছিল বিক্রির চাপ।

করোনায় পতন ঠেকাতে গত মার্চে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার বেঁধে দেওয়া সার্কিট ব্রেকারের ফ্লোর প্রাইসে শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এ কারণে লেনদেন কম হলেও এই সীমা এখনই তুলছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফ্লোর প্রাইস তুলে দিলে ব্যাপক উত্থান ও পতন দেখা দেবে। বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এই সীমা তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যদিও স্টেকহোল্ডাররা বলছেন, ফ্লোর প্রাইস সীমা না তুললে লেনদেন গতি পাবে না। স্থিতিশীলতা আনতে এখনই না তুললেও নির্দিষ্ট সময় পর ফ্লোর প্রাইস সীমা তুলে দিতে হবে। আবার কেউ কেউ পুঁজিবাজারে কালো টাকার বিনিয়োগের অনুমিত দেওয়ার সুযোগ চাইছেন। তাঁদের মতে, কালো টাকার বিনিয়োগ এলে বাজারে গতিশীলতা বাড়বে। কারণ এখন বাজারে তারল্য সংকট রয়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, ‘এখনই ফ্লোর প্রাইস সীমা তুলে দিচ্ছি না। কারণ দীর্ঘদিন বন্ধের পর বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সেটা তুলে দেওয়া হবে। বাজার গতিশীল করতে বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাজার চালু হলে বিনিয়োগকারীরা আস্তে আস্তে বাজারে আসবে। তখনই বাজার স্বাভাবিক হবে।’

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বিনিয়োগকারীর স্বার্থকে মুখ্য ধরে নিয়ন্ত্রকের নীতি সহায়তায় চাঙ্গা হবে পুঁজিবাজার। নতুন নতুন আইপিও, ভালো কম্পানি তালিকাভুক্তকরণ ও বাজার কারসাজি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পুঁজিবাজার স্বাভাবিক চিত্রে ফিরে আসবে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, করোনার আঘাতে পুঁজিবাজারে পিছুটান দিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগ বাড়ানোর বিপরীতে মূলধন তুলে তাঁদের বড় অংশই বাজার ছেড়েছে। এই অবস্থায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর আস্থা ফেরানো ও সহায়তা দিলে বাজারে গতি ফেরার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজার খুলে দেওয়া সরকারের বড় সিদ্ধান্ত। অনেকের মূলধন আটকে ছিল। কেউ বিনিয়োগ করতে চাইলেও সুযোগ ছিল না। দীর্ঘদিন বন্ধের পর এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়বে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় থাকলেও বিনিয়োগকারীরা বাজারে ফিরবে। এতে করে বাজার প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে। কালো টাকার বিনিয়োগেরও সুযোগ রাখতে হবে।’

গতকালের বাজার : গতকাল রবিবার দেশের দুই পুঁজিবাজার ডিএসই ও সিএসই সূচকে বড় উত্থান হয়েছে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম অপরিবর্তিত থাকায় লেনদেন তুলনামূলক কম হয়েছে। লেনদেনের প্রথম পাঁচ মিনিটে ডিএসই প্রধান সূচক ৮ পয়েন্ট বাড়ে। এতে আগের কার্যদিবসের তুলনায় ডিএসইর সূচক বেড়েছে ৫২ পয়েন্ট। আর লেনদেন হয়েছে ১৪৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা। ডিএসই-৩০ সূচক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৩৬৫ পয়েন্ট ও ডিএসই শরিয়াহ ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ৯৫১ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা