kalerkantho

শনিবার । ২০ আষাঢ় ১৪২৭। ৪ জুলাই ২০২০। ১২ জিলকদ  ১৪৪১

ভারতে লোকসানে পড়তে পারে পোশাক রপ্তানি

এম সায়েম টিপু   

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতে লোকসানে পড়তে পারে পোশাক রপ্তানি

শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাওয়ার পর গত কয়েক বছরে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল। যদিও দেশটির স্থানীয় গার্মেন্ট খাতের উদ্যোক্তারা এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। তবে করোনা পরিস্থিতিতে এবার জোরেশোরে বাংলাদেশ থেকে আমদানীকৃত পোশাকপণ্যে শুল্ক আরোপের দাবি তুলেছে দেশটির ক্লদিং ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (সিএমএআই)।

সম্প্রতি দেশটির বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি রানীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি তোলা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ওই চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ হয়ে চীনের কাপড় প্রবেশ করছে ভারতের বাজারে।

তবে শুল্ক আরোপ হলে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা। অবশ্য তাঁরা বলছেন, সাফটার (দক্ষিণ এশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) আধীনে করা চুক্তি অনুযায়ী এ ধরনের শুল্ক আরোপ একতরফাভাবে করা সম্ভব নয়। দেশের বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিটিএমএ জানিয়েছে, বাংলাদেশ যে পরিমাণ পোশাক ভারতের বাজারে রপ্তানি করে, তার ১৪ গুণ বেশি বস্ত্রসামগ্রী ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়। সুতরাং ভারতের ব্যবসায়ীদের এ দাবি যৌক্তিক নয়। অন্যদিকে ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশে সুতা রপ্তানিতে ডাম্পিংয়ের (উৎপাদন মূল্যের চেয়ে কম মূল্য) চেষ্টার কথাও বলছে বিটিএমএ। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ভারতসহ অন্যান্য দেশের সুতা আমদানিতে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপের দাবি জানানো হয়েছে। এই দাবিতে সম্প্রতি সরকারের সংশ্লিষ্ট তিনজন মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বিটিএমএ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারত সরকার করোনা পরিস্থিতিতে বেশ কিছু আমদানি পণ্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কভিড ইমপোর্ট ডিউটি আরোপের বিষয়টি ভাবছে বলে সেখানকার স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সিএমএআইএর পক্ষ থেকে এ তালিকায় বাংলাদেশের গার্মেন্ট পণ্যকে এক বছরের জন্য অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, এতে দেশটির ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা উপকৃত হবেন। কেননা করোনা পরিস্থিতির কারণে তাদের স্থানীয় বাজারে বিক্রি কমে গেছে ৪০ শতাংশ।

পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ভারতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অনেক ভালো। শুল্ক আরোপের মুখে পড়লে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কোনো সন্দেহ নেই। অবশ্য সাফটার (দক্ষিণ এশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) আধীনে করা চুক্তি অনুযায়ী এই ধরনের শুল্ক আরোপ একতরফাভাবে করা সম্ভব নয়।

কয়েক বছর আগে ভারত বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বেশ কিছু পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়। এ সুবিধা কার্যকর হওয়ার পর দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। সিএমআইএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের আমদানীকৃত পোশাকের এক-তৃতীয়াংশই বাংলাদেশ থেকে যায়।

অবশ্য বিটিএমএর পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতের বাজারে রপ্তানি করেছে প্রায় ৫৭ কোটি ডলারের পোশাকপণ্য। কিন্তু একই সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে প্রায় ৭৭৪ কোটি ডলারের সুতা ও বস্ত্রসামগ্রী। অর্থাৎ দেশটিতে রপ্তানির চেয়ে আমদানি ১৪ গুণ বেশি।

এই পরিস্থিতিতে গতকাল সরকারের তিন মন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে বিটিএমএর পক্ষ থেকে যেকোনো দেশ থেকে সুতা আমদানিতে ট্যারিফ ভ্যালু ঠিক করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ এবং আমদানি পর্যায়ে দেশের সব শুল্ক স্টেশনে সুতা ও কাপড়ের মূল্য সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করার দাবিও জানানো হয়।

মন্তব্য