kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

করোনায় গবাদি পশুর বিক্রি কমেছে ৭০ শতাংশ

- প্রচুর মাংস আসছে ভারত থেকে - লোকসান দুই হাজার কোটি টাকা

সজীব আহমেদ    

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় গবাদি পশুর বিক্রি কমেছে ৭০ শতাংশ

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে হুমকির মুখে পড়েছে মাংস উৎপাদনকারী খামারের ব্যবসা। বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, গত আড়াই মাসে গবাদি পশুর বিক্রি কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। প্রতিদিন যেখানে ৪৫ কোটি টাকার মাংস বিক্রি হতো, সেটা ১৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। মাংস উৎপাদনকারী খামারগুলো দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। করোনাভাইরাসের ছুটির শুরু থেকে এ পর্যন্ত লোকসান হয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। এদিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রচুর ফ্রোজেন মাংস আসায় এ শিল্প আরো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

দেশে প্রায় তিন লাখ ছোট-বড় ডেইরি খামার রয়েছে। বছরে এসব খামার থেকে ৭৬ লাখ মেট্রিক টন মাংস এবং ৯৯ লাখ মেট্রিক টন দুধ উৎপাদিত হয়। মাংস উৎপাদনের জন্য প্রতিটি গরুকে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত বিশেষ পরিচর্যা করতে হয়। এই সময়ে শুধু খাবার বাবদ প্রতিটি গরুর পেছনে ব্যয় হয় ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা। অন্যান্য খরচ তো থাকছেই। চলমান পরিস্থিতিতে তিন মাসের জন্য খামারের বিদ্যুৎ ও পানির বিল মওকুফসহ প্রান্তিক খামারিদের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন।

কুষ্টিয়া জেলা ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও লিয়াকত আলী ডেইরি ফার্মের মালিক মো. জাকিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে মাংস উৎপাদকারী খামারিরা লোকসানের মধ্যে রয়েছেন। আমরা প্রান্তিক খামারিরা একদমই গরু বিক্রি করতে পারছি না। বেশির ভাগ গরু খামারেই আটকে রয়েছে। টাকার অভাবে গরুকে ঠিকমতো খাবার দিতে না পারায় শুকিয়ে যাচ্ছে। আমি আগে এক গাড়ি খড় কিনতে পারতাম ৪০ হাজার টাকায়। এখন আমাদের এক গাড়ি খড় কিনতে হচ্ছে এক লাখ ২০ হাজার টাকায়। ভুসির দাম ছিল ৯০০ টাকা বস্তা, এখন কিনতে হচ্ছে এক হাজার ৩০০ টাকা বস্তা। আগে খামারিরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাকিতে গো-খাদ্য নিয়ে খামার চালাতেন, এখন বাকিও বন্ধ।’

ফরিদপুর জেলা ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও মার্শ অ্যাগ্রোর মালিক মীর কাশেম আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন ষাঁড় গরুর দাম খুবই কম। আমরা বিক্রি করতে পারছি না। হাট-বাজার বন্ধ থাকায় বেশির ভাগ গরু খামারেই আটকে রয়েছে। এমনিতেই আমরা গরু বিক্রি করতে পারছি না, এদিকে দিন দিন গো-খাদ্যের দাম বেড়েই যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে সময়মতো গরু বিক্রি করে টাকা দিতে পারব কি না সেই ভয়ে ব্যবসায়ীরা আমাদের খাবার সরবরাহ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই বাধ্য হয়েই খামার চালানোর জন্য কিছু গরু কম দামে বিক্রি করে দিতে হয়েছে।’

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রান্তিক খামারিরা হাট বন্ধ থাকায় গরু বেচাকেনা করতে পারছেন না। যাঁরা মাংস উৎপাদন করেন তাঁরা সাধারণত দোকান থেকে বাকিতে খাবার এনে খামার চালান, পরে গরু বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করেন।’

মন্তব্য