kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

৩০০ কোটি ডলারের নিচে নামল বিদেশি বিনিয়োগ

এক বছরে কমেছে ২০ শতাংশ

জিয়াদুল ইসলাম   

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩০০ কোটি ডলারের নিচে নামল বিদেশি বিনিয়োগ

দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমে গেছে। ২০১৯ সালে নিট বিদেশি বিনিয়োগ ৩০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম। এ সময়ে একেবারে নতুন বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ২৯ শতাংশ। আর আন্ত কম্পানির ঋণের মাধ্যমে বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৪৯ শতাংশ। তবে পুনর্বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত সার্ভে প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

২০১৮ সালে দেশে সাড়ে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো এক বছরে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ এবং ৩০০ কোটি ডলারের ঘর অতিক্রম করার নতুন মাইলফলকও। জানা গেছে, একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি তামাক ব্যবসা অধিগ্রহণে ১৪৭ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে ২০১৮ সালে। ফলে ওই বছর এক লাফে ৬৮ শতাংশ বেড়ে যায় এফডিআই। কিন্তু ২০১৯ সালে নতুন বিনিয়োগ যেমন আসেনি, তেমনি বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরাও বড় ধরনের বিনিয়োগ করেননি। এতে ভাটা পড়েছে বিদেশি বিনিয়োগে। 

করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছর বিদেশি বিনিয়োগ আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে বিদ্যমান প্রক্রিয়া সহজ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর ও দীর্ঘস্থায়ী পলিসি নেওয়া সম্ভব হলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সালে দেশে নিট এফডিআই এসেছে ২৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। ২০১৮ সালে এফডিআইয়ের পরিমাণ ছিল ৩৬১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এফডিআই কমেছে ৭৩ কোটি ৯৩ লাখ ডলার বা ২০.৪৬ শতাংশ।

এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকে ১০৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে ৬৫ কোটি ৬১ লাখ ডলার, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ৪৬ কোটি ১২ লাখ ডলার এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে ৭২ কোটি ডলার। 

এ সময়ে পুনর্বিনিয়োগ হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এর পরিমাণ ১৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এরপরে ইকুইটি মূলধন বা নতুন বিনিয়োগ হিসেবে এসেছে, যার পরিমাণ ৮০ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। আর আন্ত কম্পানির ঋণ হিসেবে এসেছে ৬০ কোটি ২৯ লাখ ডলার। অন্যদিকে ২০১৮ সালে নতুন বিনিয়োগ হিসেবে আসে ১১২ কোটি ৪১ লাখ ডলার। এ ছাড়া আন্ত কম্পানির ঋণের মাধ্যমে ১১৮ কোটি ডলার এবং পুনর্বিনিয়োগ হিসেবে আসে ১৩০ কোটি ৯১ লাখ ডলার। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি এফডিআই এসেছে চীন থেকে।  

মন্তব্য